অবশেষে ভাতা জুটছে হিমেলার

আপডেট: 01:56:59 02/03/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : অন্ধ ছেলেকে নিয়ে জীবন চলার পথ খানিকটা মসৃণ হচ্ছে বৃদ্ধা ভিখারি হিমেলা বেগমের (৮০)।
এতদিন অন্যের কাছে হাত পেতে হিমেলা নিজের ও অন্ধ ছেলের আহার যোগাতেন। তার নাম এখন সরকারি ভাতার তালিকায় উঠছে। মাসিক ৫০০ টাকা করে ভাতা পেতে যাচ্ছেন তিনি। মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে হিমেলার নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি সুবর্ণভূমিতে ছেলে অন্ধ মা ভিখারি, তবু জোটেনি ভাতা শিরোনামে হিমেলা ও তার অন্ধ ছেলে আব্দুল মান্নানকে (৪৬) নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসে ইউএনও ওবায়দুর রহমানের। তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। সেই আলোকে আগামী রোববার সকালে সমাজসেবা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে হিমেলাকে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘সুবর্ণভূমিতে প্রতিবেদন দেখার পর বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচরে আসে। এরপর বৃদ্ধা হিমেলার নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সমাজসেবা অফিসার মেহেদী হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
মণিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘ইউএনও স্যার আমাকে বলেছেন। কাগজপত্র হাতে পেলে বয়স্ক ভাতার তালিকায় উনার নাম অন্তর্ভুক্ত করে রোববারের সভায় তা অনুমোদন করানো হবে।’
এদিকে ভাতা পাচ্ছেন এমন খবরে মহাখুশি বৃদ্ধা হিমেলা ও তার অন্ধ ছেলে আব্দুল মান্নান। আব্দুল মান্নান অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘বহু মানুষের কাছে হেঁটেছি। কেউ আমাদের দিকে তাকায়নি। এবার লেখালেখি হওয়ায় ইউএনও আমাদের দিকে তাকিয়েছেন। আমি উনাকে ধন্যবাদ জানাই।’
একই সঙ্গে সুবর্ণভূমির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃদ্ধা হিমেলা বলেন, ‘বাবা, কেউ তো খবর নিইনি! এহন টাকা পাব শুইনে আমি খুশি হইছি।’