অভয়নগরে তালগাছ রক্ষায় চিত্তরঞ্জন দাস

আপডেট: 07:17:27 21/12/2016



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক চিত্তরঞ্জন দাস। বয়স ৫০ পেরিয়েছে। তার একটিই চাওয়া, সরকারি ও পতিত জমি তালগাছে ভরে উঠুক। এ জন্য তিনি নিজ খরচে এলাকার রাস্তা ও পতিত জমিতে তালের বীজ রোপন করে চলেছেন। বিগত তিন বছর ধরে চলছে তার এ কার্যক্রম।
চিত্তরঞ্জন দাস জানান, নিজ জীবনের একটি স্মৃতি রাখতে তিনি এলাকায় তালগাছের আবাদ করে চলেছেন। তাছাড়া কৃষিকাজের ফাকে তালগাছের ব্যবসাও করেন। তার মতে, তালগাছের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। উঁচু তালগাছ না থাকায় এখন আর বাবুই পাখি বাসা বাঁধে না। তালের রস, গুড়, পাটালি গ্রামবাংলার একটি প্রিয় খাবার। কচি তালের শাঁস সববয়সী মানুষের প্রিয় খাবার। তালের অনেক রকম পিঠা আছে, যা আবহমান বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। তালপাতার পাখা এখনো শহর, নগর, গ্রামের মানুষের কাছে প্রিয়। এর কাঠ দিয়ে মজবুত ঘর-দরজা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, তালগাছের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে শেষ করা যাবে না। যে কারণে তিনি সর্বত্র তালগাছের আবাদ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
তিনি এ পর্যন্ত নিজ খরচে সরকারি ২০ কিলোমিটার রাস্তার পাশে ও কিছু পতিত জমিতে ৩৩ হাজার তালের বীজ রোপন করেছেন। এরমধ্যে অধিকাংশ বীজ থেকে চারা গজিয়েছে। তিনি নিয়মিত ওই সব চারার পরিচর্যা করেন। গজানো চারা গরু, ছাগলের হাত থেকে রক্ষার জন্য পাহারা দেন। প্রতি বছর তিনি নতুন করে তালের বীজ রোপন করেন। কিন্তু এ বছর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার কারণে বীজ রোপন সম্ভব হয়নি। তবে জলাবদ্ধতায় গজানো চারার কোনো ক্ষতি হয়নি। তার এ কাজে অনেক অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়। নিজ অর্থ ব্যয় করে জনসেবায় এ মহৎ কাজ করে চলেছেন।
তিনি জানান, সরকারের সহায়তা পেলে এ কাজে ব্যাপক সাফল্য আনতে পারতেন।
সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ সহকারী কৃষি অফিসার প্রভাত কুমার রায় জানান, চিত্তরঞ্জন নিজ খরচে এলাকায় তাল গাছের আবাদ করছেন। তার আবাদ করা তাল বাগান তিনি নিয়মিত দেখভালও করেন। তার এ কাজে এলাকাবাসী উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
সরকারিভাবে তাকে সহায়তা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন