অভয়নগরে বিএডিসির ধানবীজ কিনতে চাষির অনাগ্রহ

আপডেট: 01:20:22 01/12/2017



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলায় চাষিরা বিএডিসির বীজের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন। বদলে তারা ঝুঁকে পড়েছেন হাইব্রিড ধান চাষে।
চাহিদা বাড়ায় কোম্পানির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির হাইব্রিড বীজ। ডিলাররা এই তথ্য স্বীকার করলেও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে বীজ।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বিআর-২৮ জাতের প্রত্যায়িত, মান ঘোষিত ও ভিত্তি বীজ প্রস্তুত করে প্রত্যেক উপজেলায় তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাঝে তা সরবরাহ করে। অভয়নগরে ১৮ জন ডিলার রয়েছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০ টন বীজ উত্তোলন করেছেন এসব ডিলার।
ডিলার মুজিবর রহমান জানান, বিএডিসির বীজ খুব কম বিক্রি হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যেখানে প্রতিদিন ২-৩ টন হাইব্রিড বীজ বিক্রি হচ্ছে সেখানে এক মাসে বিএডিসির বিআর-২৮ জাতের বীজ বিক্রি হয়েছে ১৫ টন। প্রত্যেক ডিলারের গুদামে বিএডিসির বিপুল পরিমাণ বীজ মজুদ রয়েছে।’
বীজ কিনতে আসা দেয়াপাড়া গ্রামের কৃষক শওকত হোসেন (৪৮) বলেন, ‘আমি গত বছর বিএডিসির বিআর-২৮ জাতের ধান চাষ করে লোকসানে পড়েছিলাম। ধানে প্রচুর পরিমাণে চিটে হয়েছিল। তা ছাড়া রোগে অনেক ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই এবছর হাইব্রিড ধান চাষ করবো।’
মহাকাল গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম (৫৫) বলেন, ‘হাইব্রিড ধানে ফলন বেশি। তাই বিএডিসির ২৮ বাদ দিয়ে এ বছর হাইব্রিড ধান চাষ করবো।’
এদিকে হাইব্রিড বীজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বীজ বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কোম্পানির নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে হাইব্রিড বীজ।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাইব্রিড হীরা ধানের এক কেজির প্যাকেটে দাম লেখা আছে ২৮০ টাকা। অথচ বাজরে ওই ধান বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিলার বলেন, ‘হীরা ধানের বীজ আমাদের এলাকায় সরবরাহ নেই। অন্য এলাকা থেকে বিক্রেতারা বিভিন্নভাবে যোগাড় করছে। তাই দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।’
বীজের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নওয়াপাড়া বাজার পরিদর্শনে আসেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান ও জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ইমদাদ হোসেন। তারা বিভিন্ন ডিলারের দোকানে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানী ও তার সহকারী পরিতোষকুমার।
বাজার পরিদর্শন শেষে পরিতোষকুমার সাংবাদিদের বলেন, ‘কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে হাইব্রিড ধান বীজ ক্রয় করছে। আমরা বীজ কিনতে আসা কৃষকদের হাইব্রিড বীজ কিনতে নিরুৎসাহিত করেছি।’
তিনি দাবি করেন, ‘বাজারে কোথাও বেশি দামে বীজ বিক্রি হচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, হাইব্রিড বিভিন্ন জাতের ধানের উৎপাদন প্রচলিত জাতের চেয়ে বেশি। তবে এই ধান উৎপাদনে খরচও বেশি। আবার হাইব্রিড জাতের ধানগাছ রোগ-বালাইয়ে আক্রান্তও হয় বেশি। বেশি ফলনের আশায় হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করে বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সর্বস্বান্তও হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে। সেকারণে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের হাইব্রিড জাতের ধান চাষে নিরুৎসাহিত করেন।

আরও পড়ুন