'১৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনে বেতন পাইনি'

আপডেট: 02:45:32 18/10/2016



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : ' ১৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনে বেতন পাইনি, জীবন সংগ্রামের বোঝা টানতে টানতে এখন আমি পরিশ্রান্ত, ক্লান্ত। আর পারছি না ! ঈদ এলে তো স্ত্রী সন্তানদের সামনে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না, তবুও পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছি", কথাগুলো বলছিলেন এমপিও না হওয়া মণিরামপুরের ইত্যা-স্লুইসগেট দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা রুহুল আমিন।
শুধু রুহুল আমিন নন মাদরাসার বাকি শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারের অবস্থা একই।
স্থানীয় মরহুম হাবিবুর রহমান হাবিব নামে এক ব্যক্তির দান করা ১০১ শতক জমির ওপর ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় ইত্যা-স্লুইসগেট দাখিল মাদরাসা। শিক্ষকদের অনুদানে গড়ে ওঠে মাদরাসাটি। শুরুতে ১৫ জন শিক্ষক আর ৩৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর বেতন না পাওয়ায় তিনজন শিক্ষক পেটের দায়ে মাদরাসা ছেড়ে অন্য কাজ ধরেছেন। বাকিরা রয়ে গেছেন আজও। এমপিও হবে, বেতন পেয়ে স্ত্রী সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাবে এই আশায় আজও তাদের পথ চলা।
এদিকে শিক্ষকরা বেতন না পেলেও দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ঠিকই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরু থেকেই পাবলিক পরীক্ষায় তাদের পাসের হার ভালো। একজনও পাস করেনি এমন কোনো বছর নেই। তবে ফলাফল গত দুই-তিন বছরে ক্রমে খারাপের দিকে যাচ্ছে। উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরকে সংসারের ঘানিঁ টানে সপ্তাহে এক দুই দিন মাদরাসা ছেড়ে মাঠে নামতে হয়।
তারপরও বর্তমানে সেখানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে মাদরাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়। স্থানীয়রাও মাদরাসাটির প্রশংসা করেছেন।
মাদরাসার সুপার রুহুল আমিন বলেন, 'গত ১৯ বছর ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে মাদরাসার পেছনে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। অথচ নিজের অনার্সপড়ুয়া ছেলেকে অর্থের অভাবে লেখাপড়া করাতে পারিনি, ইংরেজিতে অনার্স পড়া মেয়েরও বিয়ে দিয়ে দিতে হলো।'
তিনি বলেন, 'লজ্জার কথা কী বলব! সপ্তাহে একদিন মাদরাসায় ছুটি নিয়ে মাঠের কাজে না গেলে সংসার চলে না।'
তবে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে এমপিও পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
প্রতিষ্ঠানের এবতেদায়ী শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, 'মাদরাসাটিত মোটামুটি ভালো লেখাপড়া হয়। তবে এই ধারা কতদিন বজায় থাকবে! মাস্টাররা কেউ তো বেতন পায় না। তাছাড়া উপবৃত্তিও বন্ধ হয়ে গেছে। মাদরাসায় চেয়ার-বেঞ্চের সংকট। আগের এমপি টিপু সুলতান থাকতে তাও কিছু অনুদান দিতো। এখন তো তাও বন্ধ।'
তিনি দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন