অভয়নগরে স্বর্ণশিল্পী সাগরের লাশ উত্তোলন

আপডেট: 01:34:08 21/03/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের অভয়নগরের স্বর্ণশিল্পী সাগর রায়ের (১৯) লাশ সমাধি থেকে তুলে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রীতম সাহার উপস্থিতিতে অভয়নগর থানা পুলিশ আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শংকরপাশা মিস্ত্রিপাড়ার সমাধিক্ষেত্র থেকে তার লাশটি তোলে। সাগর শংকরপাশা মিস্ত্রিপাড়ার বাবলু রায়ের ছেলে।
অভয়নগর থানার এসআই রেফাতুল্লাহ সুবর্ণভূমিকে জানান, সাগর রায় গত ২ জানুয়ারি দুপুরে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
এর পর সাগরের বাবা বাবলু রায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে (অভয়নগর) অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, তার ছেলে সাগরের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি; মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই পিটিশনটি অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা (নম্বর ১৭/১৮.০২.১৮) হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত গত ১১ মার্চ সাগরের লাশ সমাধি থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী আজ দুপুরে লাশ তুলে মর্গে পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রীতম সাহা সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গত ১৫ মার্চ আমাকে লাশ উত্তোলনের দায়িত্ব দেন। সেই অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার দুপুরে আমার উপস্থিতিতে সাগরের লাশ তুলে মর্গে পাঠানো হয়।’
ভগ্নিপতি সজল সরকার সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘একই গ্রামের প্রদীপ রায়ের মেয়ে অনামিকা ওরফে শুক্লার সঙ্গে সাগরের প্রেম ছিল। বছর দেড়েক আগে সাগর ও শুক্লা পালিয়ে বিয়ে করে। আমরা ছেলে ও মেয়েকে বাড়িতে ডেকে আনি এবং স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠক করি। তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শালিসে সিদ্ধান্ত হয়, উপযুক্ত বয়স হলে তাদের বিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত ছেলে-মেয়ে কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে না। কিন্তু সাগর ও শুক্লা ফোনে যোগাযোগ রাখতো, মেলামেশাও করতো। ঘটনার দিন সকালে সাগরকে মোবাইল ফোনে তাদের বাড়ি ডেকে নিয়ে যায় শুক্লা। এসময় শুক্লার মা সাগরকে নাস্তা খেতে দেয়। নাস্তা খেয়ে বাজারে যাওয়ার পর সাগর রক্তবমি করতে থাকে। আমরা খবর পেয়ে সাগরকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নেওয়ার দুই ঘণ্টার মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাগর মারা যায়। আমরা তার লাশ বাড়িতে এনে মাটি দিই। কয়দিন পরে আমরা জানতে পারি শুক্লার মা সাগরকে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। পরে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হই।’

আরও পড়ুন