অবশেষে খনন করা হচ্ছে শালতা নদী

আপডেট: 02:00:45 13/11/2018



img

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সাতক্ষীরা) : অবশেষে শুরু হচ্ছে শালতা নদী খননকাজ। নদীটি খননে এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তালা প্রেসক্লাব, পানি কমিটি, শালতা বাঁচাও কমিটি ও উত্তরণের সহযোগিতায় শালতা নদী পুনর্জীবনের লক্ষ্যে নদী অববাহিকার ভুক্তভোগী মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে।
সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার তালার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে শালতা নদী। এই নদী এক সময় বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস ছিল। তবে এর অবয়ব স্রেফ একটি খালের মতো। বর্ষাকালে উজানের ঢল বহনে অক্ষম নদীটি ফি বছর বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
সরকারি মানচিত্রে এই নদীর প্রস্থ কোথাও ৪৫০ ফুট, কোথাও ৫০০ ফুট আবার কোথাও ৪০০ ফুট দেখানো হয়েছে। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর ১৬, ১৭/১ নম্বর পোল্ডারের একাংশ বুড়িভদ্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং অপর অংশ শিবসা নদীতে গিয়ে মিশেছে। মাঝের প্রায় ১৩ কিলোমিটার একেবারেই মরে গেছে।
শালতা নদীর মরে যাওয়া প্রায় ১৩ কিলোমিটার খননে সোমবার (১২ নভেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা অঞ্চল ১৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান হয়েছে। প্রকল্পে নদীর ডুমুরিয়া উপজেলার গ্লাবদহ থেকে শুরু করে পাইকগাছা উপজেলার তালতলা পর্যন্ত খনন হবে।
এব্যাপারে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আন্দোলনের অন্যতম নেতা প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের পর বহুল অকাঙ্ক্ষিত ও টেন্ডার আহ্বান করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শালতা খননের ফলে তালা, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লু রহমান পুরনো মানচিত্র অনুযায়ী নদী খননের দাবি জানান। অন্যথায় নদী খননকে কেন্দ্র করে জনপদে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

আরও পড়ুন