অফিসে জানালার পাশে বসেন?

আপডেট: 01:58:31 13/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : অফিসে জানালার পাশের চেয়ারটিকে আমরা সবাই সেরা আসন মনে করি। একটু উঁকি দিয়ে আকাশের দিকে তাকালে বা গাছের ডালে বসা পাখির লেজ নাড়া দেখলেই ক্লান্তি কিছুটা কমে। চোখের আরাম, মনের আরাম; আমরা এ প্রশান্তি পেতে উদগ্রীব। কিন্তু ভবিষ্যতে আপনার জন্য কী ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে, জানেন কি?
দিনের পর দিন জানালার পাশে বসে কাজ করলে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, কাচ দিয়ে আসা সূর্যের আলোয় যুক্তরাজ্যের এক নারীর ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। মুখের যে দিকটায় সূর্যের আলো পড়ত, সে দিকটায় বলিরেখা পড়ে গেছে আর অন্য পাশটা ঠিকঠাক আছে!
অফিসে প্রায় এক দশক ধরে জানালা থেকে মাত্র এক মিটার দূরের চেয়ারে বসতেন ডন জফকিনস। একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন তিনি। এক সময় খেয়াল করেন, ডান গালের তুলনায় তাঁর বাম গালে বলিরেখার পরিমাণ বেশি। এক গালের চেয়ে অপর গালটির বয়স দ্রুত বাড়ছে! ২০১৬ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, মেডিকেল পরীক্ষা করাবেন। পরে তিনি উইনচেস্টারে রিভার্স টাইম ক্লিনিকে চিকিৎসক আরতি নারায়ণের শরণাপন্ন হন।
জফকিনস ভেবেছিলেন, ডা. আরতি তাঁর ত্বক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু আরতি বললেন, সান ড্যামেজ হলে সহজে সারে না! কারণ এতে ত্বকের কোলাজেন শেষ হয়ে যায়।
জফকিনস ডা. আরতিকে জানালেন, তিনি তাঁর ত্বক নিয়ে খুব সচেতন। বাইরে বের হওয়ার সময় বিশেষ পোশাক পরেন। মুখমণ্ডলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বলিরেখা-প্রতিরোধী ক্রিম মাখেন এবং কখনোই তিনি সূর্যশয়ন করেননি।
চিকিৎসক তাঁকে প্রতিটি ৩৫০ পাউন্ড মূল্যের স্কিনটেক টিসিএ স্কিন পিল দিলেন, যা তাঁকে দুই থেকে চার সপ্তাহ সেবন করতে হবে। এ ধরনের ওষুধ ত্বকের পুনর্গঠন ও শক্তিশালী ট্রিক্লোরো-এসেটিক এসিড নিয়ন্ত্রণ করে। এটা ত্বকের কোলাজেন উৎপন্ন করে, ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের আস্তরণ ভেতর থেকে সারিয়ে তোলে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ত্বক মজবুত করে। এতে ত্বকে তারুণ্য ফিরে আসে।
ডা. আরতি জফকিনসকে বলেন, ‘ত্বকের যে জায়গাটুকু কালো হয়ে গেছে, সেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ কিন্তু জফকিনস ভেঙে পড়েছিলেন এ কারণে যে, মুখের একপাশের রং বদলে গেছে!
আরতি জফকিনসকে বলেন, ‘এর আগে আমি এক ট্যাক্সি চালককে দেখেছি, যার ত্বকের অর্ধেক অংশে সান ড্যামেজ হয়েছে।’ কিন্তু জফকিনস তো ট্যাক্সি ড্রাইভার নন। তিনি সবসময় রূপ সচেতন ছিলেন। বাইরে বের হওয়ার সময় ক্রিম মাখতেন আর বছরে একবার ছুটি কাটাতেন। তা ছাড়া তিনি ২০ বছর ধরে অফিসে কাজ করছেন। জফকিনসের কোনো ধারণাই ছিল না, কাচের ভেতর থেকে আসা সূর্যরশ্মি ত্বকের বারোটা বাজাতে পারে!
‘আমি মর্মাহত হয়েছিলাম। কারণ আমি কখনওই ভাবিনি কাচের ভেতর দিয়ে আসা রশ্মি ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
চিকিৎসক আরতি তাঁকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ‘বেশিরভাগ রোগী বিশ্বাস করেন, কাচের ভেতর দিয়ে আসা সূর্যালোকের কারণে ত্বকের ক্ষতি হওয়া অসম্ভব। কিন্তু এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ, সূর্যরশ্মিতে ইউভিএ ও ইউভিবি নামে দুটি উপাদান থাকে।’
‘ইউভিবি ত্বক পোড়ানোর অন্যতম কারণ। সৈকতে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকলে এটা হয়। কাচ এটা রুখে দেয় বলে আমরা ভাবি ভেতরে থাকলে এটা হবে না। কিন্তু ইউভিএ ত্বকের বয়স বাড়ায় এবং কাচ কখনো এ রশ্মিকে ঠেকাতে পারে না।’
ওষুধ খাওয়ার পর ডন জফকিনসের ত্বক মসৃণ, শক্তিশালী, তুলতুলে এবং উজ্জ্বল হতে থাকে। আর এর সাথে বাড়তে থাকে আত্মবিশ্বাস।
‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না যে সূর্যের কারণে আমার মুখের অর্ধেক ত্বক নষ্ট হয়েছিল।’
ধীরে ধীরে ডন জফকিনসের ত্বক হারানো যৌবন ফিরে পায়। তিনি বলেন, ‘এটা এখন একদম পরিষ্কার। আমার দুই গালই এখন তারুণ্যে ভরা। সান ড্যামেজের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে ও সচেতন করতে আমি সবাইকে এ গল্প বলি। ডা. আরতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এটা শুধু ত্বক ভালো করে দেওয়ার জন্য নয়, ক্ষতির প্রকৃত কারণটা জানানোর জন্যও।’
এবার আপনিও নিশ্চয়ই সাবধান হবেন!
সূত্র : এনটিভি