অভ্যুত্থানের পর প্রথম জনসমক্ষে মুগাবে

আপডেট: 06:04:06 18/11/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। ১৭ নভেম্বর শুক্রবার আচার্য হিসেবে লালগালিচা বিছানো পথে হেঁটে জিম্বাবুয়ে ওপেন ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে যোগ দেন তিনি। খবর বিবিসির।
নীল রঙের গাউন ও মাথায় হ্যাট পরে সমাবর্তনে যোগ দেন মুগাবে। সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর তিনি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তবে তার স্ত্রী গ্রেস মুগাবে বা শিক্ষামন্ত্রী জনাথন মোয়োকে অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায়নি।
এর আগে ১৫ নভেম্বর মধ্যরাতে রবার্ট মুগাবেকে গৃহবন্দি করে জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। মুগাবেকে তার নিজবাড়িতে গৃহবন্দি করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে ফোনে নিজের বন্দিদশার কথা জানিয়েছেন ৯৩ বছরের মুগাবে।
মুগাবের দল সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় সেনাবাহিনী তকে গৃহবন্দি করে। রাজধানী হারারের সরকারি অফিস, পার্লামেন্ট ও আদালতে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে  সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয় সেনাসদস্যরা।
মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দখলের পর সেখানে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লজিস্টিক মেজর জেনারেল এসবি মোয়ো। এতে তিনি বলেন, দেশে কোনো অভ্যুত্থান হয়নি। মুগাবে এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে আছেন। আমরা তার (রবার্ট মুগাবে) চারপাশে যেসব লোকজন অপরাধ করছে এবং দেশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভোগান্তিতে ফেলছে কেবল তাদেরই লক্ষবস্তুতে পরিণত করেছি এবং বিচারের মুখোমুখি করানোর চেষ্টা করছি। এ লক্ষ্য অর্জন হয়ে গেলে দেশের পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান এই সেনা কর্মকর্তা।
রাজনৈতিক দলগুলোর তরুণ সদস্যদের সহিংসতায় লিপ্ত না হওয়ারও আহ্বান জানান জেনারেল মোয়ো। তিনি বলেন, ‘তরুণরা যেন দেশের ভবিষ্যৎ মানে নিজেদের ভবিষ্যৎ, এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে, উল্টো পথে না যায়, জাতির মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকে।’
৯৩ বছর বয়সী মুগাবে আফ্রিকার সবচেয়ে বেশি বয়সী নেতা, ১৯৮০ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতায় আছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী চাইছে ৯৩ বছরের মুগাবে যেন নীরবে পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সামর্থ্যসম্পন্ন কারও কাছে রক্তপাতহীন উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
এনবিসি ও গার্ডিয়ান পৃথক পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে রয়েছে চীন। কারণ অভ্যুত্থানের এক সপ্তাহ আগেই এক জেনারেল ও সেনাপ্রধান কনস্টানটিনো চিওয়েঙ্গা চীন সফরে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চীন জানিয়েছে, সেনাপ্রধানের এই সফর ছিল স্বাভাবিক সামরিক বিনিময়ের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তি যখন মুগাবের সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন চীন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। স্বৈরাচারি শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেও চীন মুগাবেকে সমর্থন করে গেছে। জিম্বাবুয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারী চীন। ২০১৫ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জিম্বাবুয়ে সফর করেছিলেন। ওই সময় শি বলেছিলেন দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীর। সফরে ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
অভ্যুত্থানের পরদিন বৃহস্পতিবার চীন জানিয়েছে, জিম্বাবুয়ের অনিশ্চয়তার প্রতি তাদের গভীর মনোযোগ রয়েছে। আফ্রিকার দেশটির প্রতি তাদের বন্ধুত্বের নীতি অটল থাকবে। সংকটের কারণে এই নীতিতে পরিবর্তন আসবে না। জিম্বাবুয়ের সেনাপ্রধান চীন সফরে অভ্যুত্থানের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন কি না জানতে চাইলে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুসারে, চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) জয়েন্ট স্টাফ লি ঝোশেং জিম্বাবুয়ের সেনাপ্রধানকে বলেন, চীন ও জিম্বাবুয়ে সব সময়ের বন্ধু। জবাবে চিওয়েঙ্গা জানান, সবক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা গভীর করতে চান। এই বৈঠকের দুদিন পর জেনারেল চিওয়েঙ্গা বৈঠক করেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল চ্যাং ওয়ানকুয়ানের সঙ্গে। এ সময় তিনি চীনের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন