স্মার্টফোনে তথ্য নিয়ে সবজি চাষে সফলতা পাচ্ছে সাতক্ষীরার নারীরা

আপডেট: 05:37:30 24/02/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুগলের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সবজি চাষে সফলতা পাচ্ছে সাতক্ষীরা শ্যামনগরের এলাকার নারীরা।
নোনা এলাকায় বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সবিজ চাষ করে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আয় করছে বাড়তি অর্থ। কম খরচে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে চাষ করে লাভবান হওয়া দিনে দিনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পদ্ধতি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখে পারে এ অঞ্চলের নারীরা।
এলাকাবাসী জানায়, ২০০৯ সালের প্রলয়ংকরী আইলার প্রবল জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় জেলা শ্যামনগরে নোনা পানির জন্য চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়ে। হতাশার কালোমেঘ ভর করে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে। পরবর্তিতে অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে, অক্সফ্যামের সহযোগিতায় সুশীলন রি-কল প্রকল্প নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলার বড়কুপট গ্রামে একশ' কৃষাণীকে স্মার্ট ফোন বিতরণ, ফোন ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ, ফেসবুক আইডি খুলে দেওয়া, মোবাইলে মেগাবাইট সরবারহ করা, ফোনের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও প্রতীক কল সেন্টার, প্রতীক এসএমএস ও প্রতীক ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে কৃষি তথ্য সংগ্রহ করে সবজি চাষ বিষয়ে ব্যবহার করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এ অঞ্চলের নারীরা। 
তারা আরও জানায়,  সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বড়কুপট গ্রামের লবণাক্ততার কারণে এক সময় শাক-সবজি চাষ করতে পারতো না চাষিরা। চাষ করতে না পারায় পতিত থাকত বেশির ভাগ জমি।
বর্তমানে এসব এলাকায় স্মার্টফোনে তথ্য প্রাপ্তি জন্য কমিউনিটিভিত্তিক নারীদের কৃষি সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। তারা টাওয়ার বা থ্রিডি পদ্ধতি, বস্তাপদ্ধতি (বস্তার মধ্যে মাটি ও জৈব সার মিশিয়ে তার ভিতরে সবজি চাষ), ১.৫ ফুট মাটির নীচে পলিথিন বিছিয়ে জৈবসার প্রয়োগের মাধ্যমে সবজি চাষ, লবণ পানির এলাকায় মাটিতে গর্ত করে পলিথিন ও ত্রিপল বিছিয়ে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সবজি চাষ, বাগদা রেনু বহনকারী কর্কশিটে জৈবসার ও মাটি ভরাট করে সবজি চাষ শুরু করে সফলতা পাচ্ছে। 
এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীরা বাড়ির পাশে পতিত জমিতে ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বীটকপি, টমেটো, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পালংশাক, মুলা, গাজর, পুঁইশাক, কচুরমুখী, লাউ, চালকুমড়া, গোলআলু, ঝিঙ্গা, ডাটাশাক, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, তরুল, পেঁয়াজ, রসুন, ওল, কচু, চিচিঙ্গা ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করছে। 
এসব সবজিতে আলুর ধসা রোগ, বেগুনের ডগা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ, টমেটোর নাভি ধসা রোগ, শিম, মরিচ, বরবটি গাছের জাব পোকার আক্রমণ, লালশাক, পালংশাক, মরিচ গাছ, টমেটো গাছের ছত্রাকে আক্রমণ বা মাজা পঁচা রোগের আক্রমণসহ সবজির বিভিন্ন প্রকার রোগ দেখা দিলে প্রতিকারের জন্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে গুগল অ্যাপস বা প্রতীক কল সেন্টার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রয়োগ করে লবণাক্ত এলাকাতে পূর্বের তুলনায় ৪-৫ গুণ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে এ অঞ্চলের নারীরা সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাড়ির কাছে পতিত জমিতে সবিজ চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রয় করে বাড়তি অর্থ আয় করছে।
সুশীলনের প্রোগ্রাম অফিসার তাপস কুমার মিত্র বলেন, আইলার পরে এ অঞ্চলে নোনা হওয়া যখন সফল ফলাতে না পেরে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়ে।   তখন থেকে তারা কৃষি উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে এ অঞ্চলেন প্রযুক্তি ব্যবহারে ফলে কৃষির ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। তারা নিজেদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করেও বাড়তি টাকা আয় করতে সক্ষম হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, এ অঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে শাক-সবজি চাষ করছে। এর মাধ্যেমে সহজেই তারা প্রযুক্তির সেবা পাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যাপস রয়েছে সেগুলো কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। মাঠ পর্যায়েও এই অ্যাপসগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাতক্ষীরার কৃষকরা এই অ্যাপস ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করবে।

আরও পড়ুন