আম্পানের ক্ষত কাটেনি প্রতিবন্ধী রূপসীরানীর

আপডেট: 03:14:35 28/05/2021



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর): মণিরামপুর উপজেলার জালালপুর ঘোষপাড়ায় স্কুলপড়ুয়া এক ছেলেকে নিয়ে মাটির ঘরে থাকতেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রূপসীরানী। স্বামী উত্তম ঘোষ দেড় বছর আগে ধার দেনা করে পাড়ি দিয়েছেন মালয়েশিয়ায়। সেখানে এক মাস কাজের পর করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। তখন থেকে ছেলেকে নিয়ে কষ্টের জীবন শুরু হয় রূপসীর।
রূপসীর সেই কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে গত বছরের ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আম্পান। আম্পান তার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটি কেড়ে নিয়ে তাকে করেছে গৃহহারা। রূপসীর ঘর ভাঙার এক বছর পার হলেও এগিয়ে আসেনি উপজেলা প্রশাসন। সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি স্থানীয় সমাজপতিদের কেউই।
কোনো উপায় না পেয়ে শূন্যভিটের পাশে খুপরিতে আশ্রয় নেন তিনি। আকিজ জুট মিলে ১৯০ টাকা হাজিরায় কাজ করে ছেলেকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন এই প্রতিবন্ধী নারীর। সংসারের অভাব ঘোচাতে গত তিনদিন ধরে নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে গোবিন্দ ঘোষকেও কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন অন্যের দোকানে।
শুক্রবার (২৮মে) সকালে কথা হয় রূপসীরানীর সাথে। আম্পানের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।
রূপসী বলেন, ‘ওই রাতে ছেলেক পাশের বাড়ি নিরাপদে পাঠিয়ে দিয়ে একা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গায়ে পানি পড়ায় ঘুম ভাঙে। উঠে ল্যাম্প জ্বালিয়ে দেখি টিনের চাল ভেঙে বাঁশ আমার মাথা ও পায়ের পাশে পড়েছে। ভাগ্যিস চাল গায়ে পড়েনি। তখন ঝড় অবস্থায় দৌঁড়ে পাশে ভাসুরের ঘরে আশ্রয় নিই।’
‘কাজ না থাকায় স্বামী বিদেশে কষ্টে আছি। আমি খোড়া মানুষ। কোনোরকম মিলে কাজ করে পেট চালাই। অভাবে পড়ে তিনদিন আগে ছেলেকে কোটচাঁদপুরে এক দোকানে দিয়েছি। ঘর পড়লি কেউ সাহায্য করেনি। ভিটের পাশে টিন ঘিরে ছোট্ট চালার নিছে থাকছি।’
শুধু রূপসী নন, ২০২০ সালের ২০ মে আম্পানে মণিরামপুরের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে; গাছচাপা পড়ে উপজেলার মশ্মিমনগরে পাঁচ জনের প্রাণহানি ঘটে তখন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারিভাবে ২৫ জন ঘর পাচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। এছাড়া ঝড় পরবর্তী ৭০-৮০ জনকে সরকারিভাবে টিন, টাকা দেয় উপজেলা প্রশাসন।
খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, রূপসীরানীসহ যারা আম্পানে ঘর হারিয়েছেন, তাদের ইউএনও বরাবর আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদন করলে তারা টিন ও টাকা পাবেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন