আর্সেনিকমুক্ত পানি পাচ্ছে শার্শার দুই হাজার পরিবার

আপডেট: 06:23:49 16/09/2020



img

জয়নাল আবেদীন, শার্শা (যশোর): শার্শা উপজেলার নাভারন বাজারের দুই হাজার পরিবার পাইপ লাইনের মাধ্যমে পাচ্ছে আর্সেনিকমুক্ত পানি।
গত বছরের মার্চ মাস থেকে এর যাত্রা শুরু। শার্শা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এক লাখ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্যাংকে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তোলা হয়। পরে এই পানি সাপ্লাই দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনায় রয়েছে শার্শা সদর ইউনিয়ন পরিষদ।
শার্শা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, এটা আর্সেনিক দূষিত এলাকা। এখানকার সাধারণ মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পেতে পারে সেজন্যই সরকার এই প্রকল্পটি গ্রহণ করে। দেশের গ্রামাঞ্চলে সাপ্লাই পানির সুবিধা পাওয়ার ঘটনা বিরল। প্রথম পর্যায়ে কিছুটা অসুবিধা হলেও এখন মানুষ সচেতন হয়েছে। সুফল পেতে শুরু করেছে। চাহিদাও বেড়েছে।
প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ১৫০ ও ১৯০ টাকার বিনিময়ে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এই টাকা দিয়েই তদারককারীদের বেতন-ভাতাসহ সব খরচ বহন করা হয়।
শার্শা সদর ইউনিয়নের মোট জনসংখ্য ৩৮ হাজার। সাপ্লাই পানি বাদেও অন্যান্য এলাকায় বিশুদ্ধ আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানির ব্যবস্থা করতে ২০০টি গভির নলকূপ বসানো হয়েছে। এর বাইরে ইউনিয়নের ৫৫টি মসজিদ ও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে। এলাকাজুড়ে ২০০টি গভির নলকূপ বসানো হয়েছে, যেখান থেকে বিশুদ্ধ পানির সংস্থান হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
কাজিরবেড় গ্রামের সেলিম রেজা বলেন, 'দিনে দুইবার লাইনে পানি আসে। সকাল সাতটায় একবার, দুপুর দুইটায় আসে দ্বিতীয়বার। এতেই আমাদের চাহিদা মিটে যায়। অধিকাংশ গ্রাহক পানি আসার সাথে সাথে তাদের চাহিদা মোতাবেক ট্যাংকি কিম্বা পাতিলে পানি ভরে রাখে।'
যাদবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর তরফদার বলেন, 'এই এলাকার মানুষের সুপেয় নিরাপদ পানির খুব অভাব ছিল। এখন আমরা খুব ভালো আছি। আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানি পাচ্ছি। গ্রামে থেকেও শহরের স্বাদ পাচ্ছি।'

আরও পড়ুন