আলোকসজ্জা দেখতে বেরিয়ে লাশ তিন নারী

আপডেট: 08:09:06 18/01/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন নারী দুর্ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আহত হয়েছেন এক শিশুসহ চারজন। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে একটার মধ্যে শহরের শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের পাশে একটি বাড়ির প্রাচীর ও বিদ্যুতের খাম্বার সঙ্গে কারটি ধাক্কা লেগে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি কলেজ এলাকার ইয়াসিন আলীর মেয়ে তানজিলা ইয়াসমিন (২৮), তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসা (২৫) ও পিয়াসার খালাত ভাই আরএন রোড এলাকার মঞ্জুর হোসেনের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী (২৬)। আহত হয়েছেন পিয়াসার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি (২৮), আফরোজা তাবাসসুম তিথীর মেয়ে মানিজুর (৩), শাহিন হোসেন (২৩) ও হৃদয় (২৮)।
ইয়াসিন আলীর ভাই, নিহত দুই বোনের চাচা আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী ২৩ জানুয়ারি তার ভাতিজি পিয়াসার বিবাহোত্তর সংবর্ধনার কথা ছিল।
পিয়াসার মামা শাহিনুর রহমান ঠান্ডু সাংবাদিকদের জানান, শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জ্যোতির সঙ্গে আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেলের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসার দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়াসাকে তুলে নেওয়ার কথা। সে জন্য জ্যোতির বাড়িতে আলোকসজ্জা করা হয়। পিয়াসা রাতে ফোন করে জ্যোতিকে জানান, তারা আলোকসজ্জা দেখবেন এবং শহর ঘুরবেন। এ কারণে শুক্রবার রাত দশটার দিকে জ্যোতি তার নিজ গাড়ি নিয়ে বের হন। গাড়িতে পিয়াসার বোন তানজিলা, খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী, তার মেয়ে মানিজুর এবং জ্যোতির দুই বন্ধু হৃদয় ও শাহিন ছিলেন। রাতে আলোকসজ্জা দেখে শহরে তাদের স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পালবাড়ি এলাকা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন।
ফেরার পথে রাত সাড়ে ১২টা থেকে একটার মধ্যে যশোর শহরের পুরাতন কসবা শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের পাশে থাকা একটি বিল্ডিংয়ের প্রাচীর ও বিদ্যুতের খাম্বায় সজোরে আঘাত করে মাইক্রোবাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গাড়িতে থাকা অন্যরা কমবেশি আহত হন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। যশোর কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) তাসমীম আলম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র ব্রাদার মোফাজ্জেল হোসেন জরুরি বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিনজন মারা যান। আহত শিশুটি আশঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন