আসামে পুলিশের গুলিতে নিহত অন্তত ৩

আপডেট: 10:37:13 12/12/2019



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠা আসামের গুয়াহাটিতে পুলিশের গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো বহু মানুষ।
বুধবার রাতে পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের পরেই সেখানে কারফিউ জারি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই কারফিউ ভেঙে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসার পরই গুলিতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের বিমানঘাঁটির কাছের একটি শহরে বিক্ষোভকারীরা এক পোস্ট অফিসসহ সরকারি সম্পত্তি জ্বালিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল এবং কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রামেশ্বর তেলির বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
আসামের চারটি রেলওয়ে স্টেশনেও বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর করাসহ আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। এ গোলযোগ, বিশৃঙ্খলায় রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে যাত্রীরা।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য জায়গাতেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। আসাম ও ত্রিপুরায় রেল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বুধবারই আসামের দশটি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা আরো ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।তাছাড়া, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হওয়া চারটি এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়।
এক বিজেপি নেতার বাড়িতে বিক্ষোভকারীরা হামলার পর গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে কারফিউ জারি হয়। ছাত্র সংগঠনের ডাকা প্রথমদিককার বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে এতে বহু মানুষ যোগ দেওয়ার তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার দীপককুমারকে সরিয়েছে সরকার। বদলি করা হয়েছে আসামের এডিজি-কেও।
ভারতে বুধবার রাজ্যসভায় পক্ষে ১২৫টি এবং বিপক্ষে ৯৯টি ভোট পেয়ে পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে গিয়ে ভারতে শরণার্থী হওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে আনা হয়েছে এ বিল। হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা আছে বিলে। বিলটিতে মুসলিমরা না থাকায় এটি সাম্প্রদায়িক বলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বলছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই অনুমোদন করা হয়েছে।
কিন্তু আসামের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বলছে, এ পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে বিদেশি শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কা আছে। আবার অনেকেই বলছেন, এ নাগরিকত্ব আইনে মুসলিমদের সুরক্ষার প্রস্তাব না দিয়ে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠা আসামকে শান্ত করতে আশ্বাস দিয়ে মোদি বলেছেন, “অসমীয়দের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে না।' বৃহস্পতিবার সকালে টুইটে তিনি লেখেন, “আসামবাসীর রাজনীতি, ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমির অধিকার রক্ষায় সাংবিধানে যে রক্ষাকবচ রয়েছে, তা রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং আমি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
সূত্র : এনডিটিভি, বিডিনিউজ

আরও পড়ুন