আসেননি স্বজাতির কেউ, চিতায় লাশ নিলেন মুসলিমরা

আপডেট: 12:17:46 26/07/2020



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে দেবেন্দ্রনাথ ঘোষাল (৭০) নামে এক পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা এগারোটার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ঘুঘুদাহ গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।
করোনায় মৃত্যু হয়েছে আশঙ্কায় লাশের পাশে ভেড়েননি স্বজনদের কেউ। ফলে বিকেল পর্যন্ত বারান্দায় পড়ে ছিল মরদেহ। পরে খবর পেয়ে দেবেন্দ্রনাথ ঘোষালের সৎকারে এগিয়ে আসেন তাকওয়া ফাউন্ডেশনের একদল মুসলিম স্বেচ্ছাসেবী।
তারা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে মৃতদেহ সাতগাতী শ্মশানের চিতা পর্যন্ত পৌঁছে দেন। সেখানে মরদেহ সৎকার করা হয়।
গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক কাঞ্চন ঘোষাল বলেন, 'একসপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বরে ভুগছিলেন আমার কাকা। আজ (শনিবার) সকালে অবস্থা অবনতির দিকে যায়। বেলা ১১টার দিকে মারা যান তিনি। করোনা-আতঙ্কে লাশের পাশে কেউ যায়নি। পরে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের মণিরামপুর টিমের সহায়তা চাওয়া হলে তারা সহযোগিতার হাত বাড়ান।'
তাকওয়া ফাউন্ডেশনের মণিরামপুর টিমের সমন্বয়ক নাসিম খান বলেন, 'সকালে মারা গেলেও আমরা খবর পাই বিকেলে। গিয়ে দেখি লাশ বারান্দায় পড়ে আছে। আশপাশে কেউ নেই। তখন আমরা টিমের আশরাফ ইয়াছিন, আজাদ মৃধা, কাজী সবুজ, বিএম আতাউল্লাহ, ইউসুফ আলী, মাহমুদুল হাসান ও তাহমিদ খান মিলে ভ্যানযোগে লাশ সাতগাতী শ্মশানে নিয়ে যাই। সেখানে সনাতন ধর্মীয় রীতি মেনে মরদেহ পরিষ্কার করা হয়। ততক্ষণে চিতা সাজানোর কাজ শেষ হয়। পরে আমরা লাশ চিতার ওপর তুলে দিয়ে সৎকারে সহায়তা করি।'

আরও পড়ুন