ইজারা ছাড়াই চৌগাছা পশুহাট, বাড়তি খাজনা আদায়

আপডেট: 08:06:34 22/07/2020



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : ইজারা ছাড়াই চলছে চৌগাছার পশুহাট। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে কম টাকার কম অংক লিখে রশিদ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে উপরজলার একমাত্র পশুহাটে টাঙানো হয়নি খাজনা আদায়ের মূল্যতালিকা। উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছরে খাজনা আদায়ের জন্য সরকার কোনো নির্দেশনাপত্র দেয়নি। তবে বিগত বছরে হাট অনুযায়ী পশুর ক্রয় মূল্যের ৫ থেকে ৭ ভাগ খাজনা আদায়ের নির্দেশনা ছিল।
অফিসের অন্য একটি সূত্র বলেছে, সরকারনির্ধারিত খাজনা গরু-মহিষের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা, ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে এ হাটের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। হাট এখন পৌরসভার তত্ত্বাবধানে খাসভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মূলত পৌরসভার নামে বেওয়ারিশ এই পশুহাট আগের মালিকরাই মোটা টাকা ঘুষের বিনিময়ে পরিচালনা করছেন। যে কারণে ক্রেতাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করছেন তারা।
বুধবার হাটে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের পাশাপাশি বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অবৈধভাবে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক আজিজুর রহমান কুরবানির জন্য পশু কিনতে গিয়েছিলেন হাটে। তিনি বলেন, ‘আমি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনেছি। আমার কাছে তিন হাজার টাকা খাজনা দাবি করেন। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা দুটি ছাগলের জন্য ৬০০ টাকা নিয়ে ৩০০ টাকার রশিদ দেন। বারবার ৬০০ টাকার রশিদ দাবি করলেও কর্ণপাত করেনি আদায়কারীরা।’
অন্য একজন গরু ক্রেতা বলেন, ‘আমি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেছি। আমার কাছে সাত হাজার টাকা খাজনা আদায় করেছে।’
এভাবে আরো কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, এই হাটে খাজনা আদায়ের মূল্যতালিকা না থাকায় ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক হাটে গরু-ছাগল বেচা-কেনার ওপর আরোপিত খাজনার পরিমাণ লেখাসম্বলিত বোর্ড থাকার কথা থাকলেও চৌগাছা পৌরসভার পশুহাটে তা টাঙানো হয়নি। যেকারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। হাটে খাজনা আদায়ের মূল্য তালিকা থাকলে ইজাদারেরা অতিরিক্ত টাকা নিতে পারতেন না।
জানতে চাইলে চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূরউদ্দীন আল মামুন হিমেল বলেন, সরকারি নির্দেশনার চেয়ে অনেক কম খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী ইনামুল হক বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পশুহাটে খাজনা আদায়ের ব্যাপারে সরকার কোনো নির্দেশনা দেয়নি।’

আরও পড়ুন