ইবনে সিনার ফার্মেসিতে ওষুধের দাম দ্বিগুণ!

আপডেট: 03:14:28 19/10/2019



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে যশোর ইবনে সিনা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফার্মেসিতে ইজেকশন ও ওষুধের বাড়তি দাম নেওয়ায় হট্টগোল বেধে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ভুক্তভোগী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকারান্তরে বেশি দাম নেওয়ার কথা স্বীকারও করছেন।
যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার বাসিন্দা মুকুল হোসেন সুবর্ণভূমিকে অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আমার মামি-শাশুড়ি হালিমা বেগমের মেরুদণ্ডের হাড়ের সমস্যার কারণে জনতা হাসপাতালে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিলে তাকে রাতেই ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করি। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ডাক্তাররা তাকে আইসিআইতে রাখেন। ওই সময় ডাক্তার মোট ১২ পদের ওষুধ লিখে দেন। আমার স্ত্রী মাজেদা রহমান নিচতলায় ইবনে সিনার নিজস্ব ফার্মেসি থেকে ওষুধগুলো কেনে। ওষুধের মোট দাম নেওয়া হয় আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু ওই ওষুধ এবং ইনজেকশনের মোট দাম ১২-১৩শ’ টাকা। আমাদের কাছ থেকে বাড়তি ১২শ’ টাকা নেওয়া হয়েছে। একটি ইনজেকশনের দাম মাত্র ২৫ টাকা; কিন্তু দাম নিয়েছে ৪৫ টাকা করে।’
‘এই নিয়ে হট্টগোল হলে আমরা পুলিশকে খবর দেই। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তখন ফার্মেসির লোকজন দোষ স্বীকার করে আমাদের টাকা ফেরত দিতে চায়। আমরা টাকা নেইনি। ওষুধের ক্যাশ মেমো নিয়ে রেখেছি। আমি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরে লিখিত অভিযোগ করবো। যেন আমার মতো কেউ এরকম ক্ষতির শিকার না হয়,’ বলছিলেন মুকুল।
মাজেদা রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার সাথে ফার্মেসির লোকেরা মারাত্মক দুর্ব্যবহার করেছে। পুলিশ এলে টাকা ফেরত দিতে চাইলো। কিন্তু এর আগে আমার সাথে অনেক কটু কথা বলেছে। এদের বিচার হওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে ইবনে সিনা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যশোরের ব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান তারেক সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘ইনজেকশনের বাজারদর ২৫ টাকা, এটা ঠিক আছে। তবে আমরা বেশি দামে কিনি, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। আমাদের কিছু করার নেই।’
অন্যান্য ওষুধেরও বাড়তি দাম নেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীরকুমার সরকার সুবর্ণভূমিকে বলেন, এঘটনায় রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

আরও পড়ুন