ইলিশ নিল, ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করলো পেঁয়াজ

আপডেট: 01:05:22 15/09/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল : ভারতে পদ্মার ইলিশ রফতানির আগেই কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলো ভারত।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। পূর্বঘোষণা না থাকায় বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পেঁয়াজ ভর্তি প্রায় ১৫০টি ট্রাক। প্রায় একই অবস্থা অন্যান্য স্থলবন্দরেও।
ভারতের শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার কিছু নীতিগত পরিবর্তন হওয়ার কারণে পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করা উচিত।
সোমবার সকাল থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজের গাড়ি বাংলাদেশে ঢোকেনি। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সকালের দিকে ৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ প্রবেশের পরপরই দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের সংগঠন।
বিকেলের দিকে দুই ট্রাক ইলিশ ভারতে রফতানি হয় বেনাপোল দিয়ে। বাংলাদেশ সরকার শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে এক হাজার ৪৫০ টন ইলিশ পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের জন্য রফতানির সুযোগ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা আমলে নিল না ভারত।
বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল রফতানিকারক সমিতির পক্ষে ব্যবসায়ী কার্তিক ঘোষ বলেন, পেঁয়াজ রফতানিকারক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৭৫০ মার্কিন ডলারের নিচে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করবে না। সে কারণে অনেকগুলো পেঁয়াজভর্তি ট্রাক বর্ডারে দাঁড়িয়ে আছে।
অথচ বাংলাদেশ থেকে আজই যে ইলিশ ভারতে গেল, তার দাম দেশের বাজারের তুলনায় কম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেনাপোলের পেঁয়াজ আমদানিকারক  রফিকুল ইসলাম রয়েল জানান, ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য শুরুর পর থেকে ২৫০ মার্কিন ডলারে পেঁয়াজ আমদানি হয়ে আসছে। ভারতের নাসিকে বন্যার কারণে সেখানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রফতানিকারকরা স্থানীয় বাজারদর হিসেবে ৭৫০ ডলারের নীচে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করবে না। এ কারণে তারা পেঁয়াজ  রফতানি সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে।
ভারতের বনগাঁ এলাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী অনিল মজুমদার টেলিফোনে জানান, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করতে তাদের আপত্তি নেই। বাজারদরে এলসি পেলে তারা আবার রফতানি শুরু করবেন। সে ক্ষেত্রে পুরনো যে সব এলসি দেওয়া আছে সেগুলো ২৫০ মার্কিন ডলারের স্থলে ৭৫০ ডলার করা হলে পেঁয়াজ রফতানি প্রক্রিয়া  স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, ভারত কোনো ঘোষণা ছাড়াই মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্যে সমঝোতার বিকল্প নেই।  তারা রফতানি বন্ধ না করে পেঁয়াজের  আমাদানিকারকদেরকে সময় বেঁধে দিতে পারতেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তটা নেওয়া ঠিক হয়নি।
এদিকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবরে নড়েচড়ে বসেছে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়িরা। সন্ধ্যার আগেই খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন