ঈদের আগের রাতে যশোরে যারা দুঃসংবাদ শুনলেন

আপডেট: 01:34:53 02/08/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের আগের রাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো দুঃসংবাদ শুনলেন যশোরের ১০৭ ব্যক্তি। একই দিন সকালে প্রথম দফার ফলাফলে জেলার ২৯ জনকে একই দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছিল।
ওই দিন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেনোম সেন্টারে পরীক্ষা শেষে রাতে যশোরের ১০৭টি নমুনা পজেটিভ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
পজেটিভ হওয়া নমুনাগুলোর মধ্যে অবশ্য দুইজনের বাড়ি যশোরের বাইরে। তারা যশোরে এসে নমুনা দিয়েছিলেন।
বাদবাকি ১০৫ জনের মধ্যে যশোর শহরসহ সদর উপজেলায় আছেন ৫২ জন। এছাড়া কেশবপুরে আছেন ২০ জন (সকালে দুইজন), শার্শায় ১৫ জন (সকালে ছয়জন), ঝিকরগাছায় ছয়জন (সকালে তিনজন), মণিরামপুরে পাঁচজন, অভয়নগরে পাঁচজন এবং চৌগাছায় একজন (সকালে একজন)।
এদিন যশোর শহরসহ সদর উপজেলায় শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে আছেন নূতন উপশহরের সানজিদা (৩২), লুৎফর রহমান (৪০), এস এম বজলুর রহমান (৪২) ও মো. ইউনুস আলী(৭০), বিরামপুরের আব্দুল খালেক (৪৮), ষষ্ঠিতলাপাড়ার মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), বারোবাজারের (ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত) মো. রকিবুল ইসলাম (৪৮), ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের ফারুকুল ইসলাম (৫৪), আহসান কবির (২২) ও সুজিতকুমার দাশ (৫৬), ঘোপের মাহমুদা (২৮), জেরিন (২৮), শহিদা (৫০), সেন্টলি (২৭) ও এনভ্রিড (৫৪), খড়কির রতন (৪১) ও রবিউল ইসলাম (২৫), শার্শার মনিরুজ্জামান(৭৭), যিনি যশোরে নমুনা দিয়েছিলেন, পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার হুমায়ুন কবির (৪০), সার্কিট হাউজের রকিবুল হক (২৮), রেলগেটের কুলসুম বেগম (৪৫), শহরের সুকান্ত(৫০), শেখহাটির রেজাউল করিম(৫০), গোপালপুরের ইনামুল ইসলাম তুহিন (৩০), নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার সুভাসচন্দ্র মণ্ডল(৫৮), বকচরের সুকান্ত পাল(৩২), আদ্ব-দীন হাসপাতালের আফরিন সাহানা (২৬) ও ওমর ফারুক (৮), বেজপাড়ার তাপসকুমার চক্রবর্তী (৩২) ও সীমা বিশ্বাস (৩২), কোতয়ালী থানার রাবেয়া বসরী (২৮), শহীদ মসিয়ূর রহমান রোডের রওশন আরা মমতাজ (৪৩), কেন্দ্রীয় কারাগারের দেলোয়ার (৪২), শামীম (৩০) ও সাহাদাত (৪৫), পুলিশ লাইনের আব্দুর রহমান (২৯) ও শাহীন মিয়া (৩০), উপশহরের আবু হানিফ (৭০), জেনারেল হাসপাতালের নাসরিন আক্তার (৩৯) ও মঞ্জুরুল কবির (৫৮), পুলেরহাটের মুকুল বিশ্বাস (৪৮), হুশতলার সেতারা খাতুন (৫৮), নওয়াপাড়ার মাহবুব (৪০), শহরের গোপীনাথ(৩০), নওয়াপাড়ার শামীমা (৩৫) ও কেয়া (২২) এবং ছাতিয়ানতলার ইসহাক (১৮)।
কেশবপুর উলজেলার আছেন  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মলেন্দু দাস (৬৯), কৃষ্ণপদ পাল (৪৫), নয়নকুমার দাস (৩১), মনিরুজ্জামান (৩৫), পঙ্কজ রায় (৪৮), রহিমা খাতুন (৫৭), পুলককুমার শিকদার (৫২) ও অর্জুনকুমার দাস (২৭), কাঞ্চনবালা তরফদার(২৩), সাগরদাঁড়ীর মো. আকিরুজ্জামান(২৭), সাহাপাড়ার উদয় দে (৫০), মজিদপুরের কার্তিক রায় (৫০), সাতবাড়ির আব্দুস সবুর (৪৫) এবং বুড়িয়াডাঙ্গার মায়ারানি রায়। ঠিকানা পাওয়া যায়নি শারমিন সুলতানা (৩০) ও মাহমুদুল হাসান (২৫), রেহেনা পারভিন (৩৪), পলাশকান্তি দাস (৩০), আনোয়ারুল ইসলাম ও জেসমিন নাহারের (৪৫)।
শার্শা উপজেলায় শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে আছেন নাভারন সাতক্ষীরা মোড়ের আবরার হাসান (৩২) ও আবির হাসান (৩২), নাভারনের শাহিদা তাসনিম (৩৫) ও মালিহা তাসনিম, বেনাপোল কাস্টম হাউজের সাবরিনা আকতার (৩২) ও আকসির উদ্দিন মোল্লা (৫৩), উপজেলার মমতাজ বেগম (৫৭), বাহাদুরপুরের আব্দুল মাজিদ (৭২), ছোটআঁচড়ার সাইফুল ইসলাম (৩৮), উত্তর বুরুবাজারের রাফসান (১২), গাতিপাড়ার নুর মোহাম্মদ (৫৩), ঝিকরগাছার (শার্শায় নমুনা দিয়েছিলেন) মোশাররফ হোসেন(৪৯), রেলবাজারের শহীদা খাতুন (৬২), উলাশির ফুলসুরাত (২৮) এবং উপজেলার আলী আকবর (৫২)।
ঝিকরগাছা উপজেলায় শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে আছেন মো. মনিরুজ্জামান (৫৩), নাসিমুল হাবিব (৫০), আফজাল হোসেন (৪২), মো. রেজাউল করিম (৭০), সম্মিলিত স্কুল রোডের দীপককুমার (৩৫) এবং একই এলাকার কবিতারানি কাশ্যপ (৩৫)।
মণিরামপুর উপজেলায় আছেন খানপুরের আমীর হোসেন (৬৫), ঝাঁপার মো. আজিজুল হক (৫৮), খেদাপাড়ার মোহাম্মদ আলী (৫৫), বাজারের সৈয়দ নজরুল ইসলাম (৩০) ও সুব্রত চক্রবর্তী(৪০)।
অভয়নগর উপজেলায় আছেন রাশিদা (৪৫), গোলাম সামাদ আলি (৩৫), রহিমা (৫৬), গুয়াখোলার আব্দুল্লাহ (২২) এবং যশোরে নমুনা দেওয়া প্রেমবাগের মাসুদ (৪০)।
চৌগাছা উপজেলায় আছেন পৌরসভার মো. মামুন কবির (৩৫) ও নুরুল ইসলাম (৫৪)।
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, ৩১ জুলাই বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত যশোর জেলার আটটি উপজেলা থেকে নয় হাজার ২০১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে সাত হাজার ৯২০টি নমুনা।
শুক্রবারে শনাক্ত ১৩৪ জনসহ(সকাল ও সন্ধ্যার ফলাফলে) জেলায় মোট আক্রান্ত রোগী এক ৮৯০ জন।
আক্রান্ত বলে শনাক্তদের মধ্যে মোট এক হাজার ৫৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ৮১১ জন।
জেলায় এখন হোম আইসোলেশনে আছেন ৬৭৬ জন। প্রাতিষ্ঠানিক (হাসপাতাল) আইসোলেশনে আছেন ২২ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে আটজনকে।

আরও পড়ুন