উচ্ছেদ করলেন ইউএনও, মামলায় আসামি গ্রামবাসী

আপডেট: 09:22:05 20/01/2020



img
img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় সরকারি খালের অবৈধ পাটা উচ্ছেদ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এই ঘটনায় দখলদার মামলা করেছেন গ্রামবাসীর নামে।
গ্রামবাসী জানান, কালিয়াকুন্ডি গ্রামে সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ করায় বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না গ্রামবাসী। বিষয়টি নিয়ে সূবর্ণভ‚মিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম গত ২ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ওই খালের অবৈধ বাধ তুলে দেন।
এদিকে, বাঁধ তুলে দেওয়ার পর মাছ লুটের অভিযোগ এনে খালের দখলদার স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী জুল হোসেন গত ৬ জানুয়ারি গ্রামের পাঁচজনের বিরুদ্ধে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, কালিয়াকুন্ডি গ্রামের মৃত সোলাইমানের ছেলে আব্দুল মজিদ, মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে আইয়ুব হোসেন, হেরমত আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তার, সৈয়দেল হক কাজীর ছেলে ওমর আলী কাজী ও মানিক মণ্ডলের ছেলে আলী হোসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ কালিয়াকুন্ডি গ্রামে রাজারকাটা খাল থেকে বারো মাসের খাল পর্যন্ত সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে মাছ চাষ শুরু করেন তিন ব্যক্তি। খালের পানি বের হওয়ার পথও তারা বন্ধ করে দেন। ফলে খালপাড়ের আট গ্রামের পানি বের হতে পারছিল না। এতে কয়েকশ’ বিঘা জমিতে চলতি বছর বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়ে।
কালিয়াকুন্ডির সুলাইমান হোসেন জানান, খালের পাড়ে তার জমি আছে। আগে ওই জমিতে তিনি বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল ফলাতে পারতেন। কিন্তু এখন তারা কোনো আবাদ করতে পারেন না।
গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ বলেন, তার গ্রামের অনেক মানুষের জমি রয়েছে খালের পাশে। প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করায় তারা এখন ধান চাষ করতে পারছেন না।
সাইফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ খালের বাঁধ উচ্ছেদ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। অথচ খালের দখলদার জুল হোসেন গ্রামবাসীর নামে মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে গত রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার কার্যালয়ে মামলার বাদী এবং আসামি পক্ষকে নিয়ে মীমাংসা বৈঠকে বসেন। সেখানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, বৈঠকে বাদী জুল হোসেন ও গ্রামবাসী উভয় পক্ষ থেকে গ্রামে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আর মামলা করবে না। জুল হোসেন তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন।
মামলার বাদী জুল হোসেন বলেন, ‘নির্বাহী অফিসার পাটা তুলে দেওয়ায় এলাকাবাসী আমার ৩৫ লাখ টাকার মাছ লুট করেছে। এজন্য তাদের নামে মামলা করেছি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২ জানুয়ারি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদের সময় মামলার বাদী জুল হোসেন তার মাছ চাষের সম্পত্তি বিভিন্নজনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া বলে দাবি করেন। তবে তিনি নিজের পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
ইউএনও বলেন, এই ১/১ তফশিলভুক্ত সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করতে যাচাই-বাছাই করে রেকর্ড সংশোধনী মামলা (মিস কেস) করে সরকারের অনুকূলে ফিরিয়ে আনা হবে। কালিয়াকুন্ডি মৌজায় ৬২২ নম্বর দাগ ১/১ খাস খতিয়ান হিসেবে সরকারি রেকর্ডভুক্ত ছিল। যেখানে জমির পরিমাণ ৭.৭৭ একর (প্রায় ২৫ বিঘা)। ২০১৬/১৭ সালে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়। এটা সেসময় যোগসাজসে হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন