উঠানবৈঠকে মিলছে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সমাধান

আপডেট: 07:28:59 08/01/2020



img
img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : আলাইপুর গ্রামের গ্রাহক সুজিত মল্লিক খোদ পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিনের উপস্থিতিতে তার সমস্যার কথা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যান সমাধান।
ইলিয়াস আলী শিকারী নতুন মিটার নিতে আগ্রহী। তিনি ওইদিনই তা পেয়ে গেলেন।
সিদ্ধার্থ মল্লিকের বাসার মিটারটি সরানো প্রয়োজন। সেটাও হয়ে গেল তখনই।
এগুলো সবই সম্ভব হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের উদ্যোগে পরিচালিত উঠানবৈঠকের মাধ্যমে; যা বর্তমানে গোটা দেশে পরিচালিত হচ্ছে।
এই উঠানবৈঠক শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঝিনাইদহের মাধ্যমে। ঝিনাইদহের তৎকালীন মহা-ব্যবস্থাপক মো. আলতাফ হোসেনের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। চলতি বছরের ৮ আগস্ট একদিনে তারা ২৩৬টি গ্রামে ২৪৪টি উঠানবৈঠক করেন; যা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কাড়ে। কেন্দ্র থেকে দেশের সব সমিতিকে এমন উঠানবৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন এজাতীয় উঠানবৈঠক গোটা দেশে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। তারই আলোকে বর্তমানে গোটা দেশে রোজ চলছে পল্লী বিদ্যুতের উঠানবৈঠক। সাধারণ গ্রাহকরা যে বৈঠকের মাধ্যমে সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, জানাচ্ছেন নিজেদের সমস্যা। তাৎক্ষণিক সমাধানও পাচ্ছেন। অনেক বৈঠকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন নিজেও উপস্থিত থাকছেন।
বর্তমানে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উঠানবৈঠকের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা এজিএম রেজাউল ইসলাম জানান, তাদের সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন এই উঠানবৈঠকের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনিই প্রথমে এই বৈঠক নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তারাও বিষয়টি শুনে পরীক্ষামূলকভাবে করার ব্যাপারে সায় দেন।
সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চলতি বছরের ৮ আগস্ট তারা ঝিনাইদহ জেলার ২৩৬টি গ্রামে একই দিনে ২৪৪টি উঠানবৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলো অত্যন্ত কার্যকর হয়েছিল। একই দিনে তিন শতাধিক গ্রাহকের নানা সমস্যার সমাধান হয়।
এরপর এই উঠানবৈঠক সারা দেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে ছড়িয়ে যায়।
রেজাউল ইসলাম আরো জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈনউদ্দিন নির্দেশ দেন, সারাবছর এজাতীয় উঠানবৈঠকের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে। তারই আলোকে গত তিন মাসে শুধু ঝিনাইদহে এক হাজার ১৯২টি বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে তারা চার শতাধিক গ্রাহকের নানা সমস্যার সমাধান করেছেন। অনেক আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সংযোগ পেয়েছেন।
প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ থেকে শুরু হওয়া এই উঠানবৈঠক বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। গত তিনমাসে গোটা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি বৈঠক হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কুটিদুর্গাপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, তাদের গ্রামের মাঠে গভির নলকূপের কাছে বিদ্যুতের তারের সঙ্গে কেবল লাইনের তার আটকে ছিল। বিষয়টি খুবই ভয়ংকর হলেও সমাধান হচ্ছিল না। এরপর গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের উঠানবৈঠক হয়। সেখানে বিষয়টি তুলে ধরার পর কর্তৃপক্ষ সমাধান করেছেন। ডেফলবাড়িয়া গ্রামের সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, তার বাড়িতে একটা নতুন মিটারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পাচ্ছিলেন না। এরপর তাদের গ্রামে হওয়া উঠানবৈঠকে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন। সঙ্গে সঙ্গে নতুন মিটার পেয়ে যান।
একইভাবে গত ২৯ নভেম্বর খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জালমা ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় একটি উঠানবৈঠক। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন। তার উপস্থিতিতে একাধিক গ্রাহক তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ইলিয়াস হোসেন শিকারী নামে এক ব্যক্তি জানান, তার বাড়িতে একটি নতুন মিটারের প্রয়োজন ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে এ বিষয়ে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। শেষে উঠানবৈঠকে প্রসঙ্গটি উঠলে ওই দিনই তিনি নতুন মিটার পেয়েছেন।
একইভাবে খানজাহান আলী শিকারী নামে এক গ্রাহকও পেয়েছেন একটি নতুন মিটার। তিনিও দীর্ঘদিন এই মিটারের জন্য ঘুরেছেন। ওই বৈঠকে ২৭টি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয় বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন।
এই প্রকৌশলী জানান, তিনি ঝিনাইদহ থাকতে উঠানবৈঠক চালু করেছিলেন। বর্তমানে এটা গোটা দেশে পরিচালিত হচ্ছে। গত তিনমাসে গোটা দেশে কমপক্ষে পাঁচ হাজার উঠানবৈঠক হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন উপস্থিত থাকছেন।

আরও পড়ুন