উপবৃত্তির টাকা তুলে নিচ্ছে প্রতারকরা

আপডেট: 03:07:03 06/10/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): শার্শায় বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তাদের হাতে আসার আগেই হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। উপবৃত্তির টাকা ‘নগদ’ থেকে তুলে নিচ্ছে তারা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘যে সকল স্কুলে এমন ঘটনা ঘটেছে সেসব স্কুলের শিক্ষকদের আমরা তালিকা দিতে বলেছি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে সতর্ক করে উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, আগে ‘বিকাশ’ বা ‘শিওরক্যাশ’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হতো। ‘নগদ’-এর মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার জন্য ২০২০ সালে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন, নাম, শ্রেণি, রোল নম্বর, মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল সিম নম্বর ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে এই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তাদের মায়েদের নামে রেজিস্ট্রেশন করা ওইসব মোবাইল ফোন নাম্বারে দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা তুলতে এজেন্ট ও কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অভিভাবকদের অনেকেই দেখেন, তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। কে বা কারা তাদের টাকা উঠিয়ে নিয়েছে।
উপজেলার বড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী লামাইয়া, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইমাম, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুরি, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া, রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আছিয়া খাতুন ও রাকিবুল ইসলাম এবং সম্বন্ধকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শাহারিয়া, বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জুহাইন হোসেনসহ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী প্রণোদনার অর্থ পায়নি।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জুহাইন হোসেন অননের নানা সাংবাদিক জামাল হোসেন জানান, আগে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। পরে স্কুল থেকে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার পর এ পর্যন্ত কোনো মেসেজ (টেক্সট বা ক্ষুদে বার্তা) পাননি। স্কুলে যোগাযোগ করা হলে তারা নগদ কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে বলেন। কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে দেখা যায়, দুই দিনে কে বা কারা এক হাজার ৮০০ টাকা তুলে নিয়ে গেছে। যে নম্বর দিয়ে টাকা তুলেছে সেই নম্বরে ফোন করলে বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক স্বরুপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, মশিয়ার রহমান, শার্শার ডাক্তার আক্তারুজ্জামান, মনির হোসেন, শামিম ইসলাম, হোমিও চিকিৎসক আবু মুছা জানান, সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির প্রণোদনার অর্থ সহজে অভিভাবকদের হাতে পৌঁছানোর জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে; বিষয়টি খুবই যৌক্তিক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রতারণার ঘটনা ঘটলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। দরকার হলে তফসিলি ব্যাংকে দশ টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজ্জত আলী বলেন, ‘আমার স্কুলের ১০-১৫ জন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়কে জানিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘‘অনেক অভিভাবকই এসে বলেছেন, ‘টাকা এসেছে কিন্তু আমরা তুলতে পারছি না।’’
উপজেলার আরো কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকাও এভাবে প্রতারকরা তুলে নিয়েছে বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শিওরক্যাশে টাকা দেওয়ার সময়ও প্রথম দিকে এভাবে প্রতারকরা উপবৃত্তির টাকা তুলে নিতো।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার প্রতিটি স্কুলে ২-৫ জন বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীর ‘নগদ’-এর মাধ্যমে প্রণোদনার টাকা আসেনি। এ পর্যন্ত ৬০ জনের নামের তালিকা পাওয়া গেছে।
শিওরক্যাশে দেওয়ার সময়ও প্রথমদিকে এমন হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওটিপি নম্বর নিয়ে টাকা তুলে নেওয়া মোবাইল নম্বরগুলো এরপর থেকেই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছি প্রণোদনার অর্থ না পাওয়ার তালিকা দেওয়ার জন্য। সরকারি অর্থ যেভাবেই দেওয়া হোক না কেন অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে পায়- তা নিশ্চিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন