উপশহরে ইমুকে যেভাবে খুন করে উঠতি সন্ত্রাসীরা

আপডেট: 12:41:33 25/06/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : উঠতি সন্ত্রাসী দুর্জয় ও সোহাগ বার্মিজ ছুরি দিয়ে এহসানুল হক ইমুকে এলোপাতাড়ি কোপায়। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আল শাহরিয়ার, শাহিন, বাবু, মাসুদ, ইয়াসিন, সুইট, আসিফসহ আরো কয়েকজন দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ইমুকে।
উল্লিখিতদের মধ্যে আল শাহরিয়াকে গ্রেফতার করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে এই তথ্য দেয় সে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেয়।
গত ২১ জুন সন্ধ্যার পর যশোর শহরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ডের পাশে শিশু হাসপাতালের কাছে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ইমু। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর মারা যান তিনি।
নিহত ইমু নূতন উপশহর বি ব্লকের ১০৯ নম্বর বাড়ির সৈয়দ ইকবাল হোসেনের ছেলে।
এক আসামির এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে পিবিআই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশের এই সংস্থাটি।
পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের গণমাধ্যমে পাঠানো তথ্যে বলা হয়েছে, নিহত ইমুর বাবা ২২ জুন কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলাকে ভিত্তি করে পিবিআই খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে নামে। হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআইয়ের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। আটক করা হয় আল শাহরিয়ার (২০) নামে এক তরুণকে। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেসহ মোট নয়জন খুনের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করা ছাড়াও কী কারণে ইমুকে খুন করা হয়েছে, সে তথ্যও দেয়। এরপর শাহরিয়ারকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই স্নেহাশিস দাশ গ্রেফতার শাহরিয়ারকে উদ্ধৃত করে বলছেন, ঘটনার দিন শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে ‘রয়েল টি স্টল’-এর সামনে ইমু ও তার বন্ধু শোয়েব চা পান করছিলেন। একই স্থানে শাকিল, সাখাওয়াত ও তানভির নামে তিন যুবকও চা পান করছিল। ওই সময় আল শাহরিয়ার এবং তার বন্ধু দুর্জয় (২০) ও মাসুদ (২৫) একটি মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসে। শাকিল ও দুর্জয়ের মধ্যে মাদক বেচাকেনা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ছিল। এর জের ধরে শাকিলকে চায়ের দোকানে পেয়ে মারধর করে দুর্জয়। তারা শাকিলের মোটরসাইকেলের চাবিও কেড়ে নেয়। ইমু এই সময় দুর্জয়কে চড়-থাপ্পড় দিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করে দেন। শাকিল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পিবিআই বলছে, এর কিছু সময় পর রাত সাতটা ৪০ মিনিটের দিকে দুর্জয়, তার বড় ভাই বাবু ও সোহাগ একটি মোটরসাইকেলে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে ঘটনাস্থলে আসে। পরপরই দুটি অটোরিকশাযোগে সেখানে হাজির হয় আল শাহরিয়ার, মাসুদ (২৫), ইয়াসিন (২০), সুইট (২০), শাহিন (২০) এবং আসিফ (২০) নামে তরুণেরা। প্রথমে দুর্জয় ও সোহাগ বার্মিজ ছুরি দিয়ে আঘাত করে বসে থাকা ইমুকে। এরপর আল শাহরিয়ার, শাহিন, বাবু, মাসুদ, ইয়াসিন, সুইট ও আসিফ তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতার শাহরিয়ারকে ওই মামলায় আজ বুধবার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আকরাম হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন