একুশের অনুষ্ঠানে মিললো দুই বাংলা

আপডেট: 02:26:08 21/02/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখা পরিণত হয়েছিল দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলায়।
শুক্রবার সকালে ভাষাশহীদদের একযোগে স্মরণ করেন দুই বাংলার বাঙালিরা।
বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদী দুই বাংলার মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়। এবার দুই দেশ আলাদাভাবে মঞ্চ তৈরি করে এই মিলন মেলার আয়োজন করে। দুই বাংলার সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ীক ও সংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারের প্রতিনিধিরা সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গানের সুরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথানত করতে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে মিলিত হন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাও।
সকাল সাড়ে দশটার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মঞ্চে সভাপতিত্ব করেন যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। সীমান্তে নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। দুই বাংলার মানুষ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে, মিষ্টি বিতরণ করে পরস্পরকে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন ও আবৃত্তি করেন।
পুরো অনুষ্ঠানে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। সীমান্ত টপকে যাতে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি ও বিএসএফ ছিল সতর্কাবস্থায়। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় দুই সীমান্তে।
ভাষা দিবসের মিলনমেলায় বিজিবি-বিএসএফকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এরপর দুই দেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ দিবসটি উদযাপন করে।
এই নোম্যান্সল্যান্ডের অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল,  শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলককুমার মন্ডল, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২১ উদযাপনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আহসান হাবিব, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান প্রমুখ।
ওপারের মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা শাসক চৈতালি চক্রবর্তী, বনগাঁর পৌরপ্রধান শংকর আঢ্য,  বনগাঁ লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ মমতা ঠাকুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বীণা মণ্ডল, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি কৃষ্ণগোপাল ব্যানার্জি, বনগাঁ পৌরসভার প্রাক্তন পৌরমাতা জ্যোৎন্সা আঢ্য, বনগাঁ পৌরসভার উপ-পৌরমাতা কৃষ্ণা রায়, বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রদীপ বিশ্বাস, বনগাঁর পুলিশ প্রধান তরুণ হালদার, ১৭৯ বিএসএফ এর সহকারী কমান্ডার শিব নারায়ণ, পেট্রাপোল স্থলবন্দরের সহকারী কাস্টমস কমিশনার মিহিরকুমার চন্দ, পেট্রাপোল থানার ওসি কার্তিক অধিকারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘৫২-র ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জনগণ ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক, নাড়ির সম্পর্ক। সে জন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘আপনারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। ভাষা আর স্বাধীনতার জন্য এতো ত্যাগের নজির পৃথিবীতে অন্য কারোর নেই। এ জন্য আপনারা গর্বিত জাতি। দেশ বিভক্ত হলেও ভাষার পরিবর্তন হয়নি। আমরা ওপারে থাকলেও শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ সব ভাষা সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

আরও পড়ুন