এক আজিজ আসামি, আরেক আজিজ কারাগারে!

আপডেট: 11:03:42 12/12/2019



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় এক আব্দুল আজিজের বদলে আরেক আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নিরপরাধ আব্দুল আজিজ কারাগারে থাকলেও প্রকৃত আসামি আব্দুল আজিজ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের লোহিতমোহন সাহার ছেলে নবকুমার সাহার বাড়িতে ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর নবকুমার সাহা বাদী হয়ে  অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের নামে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন।
মামলাটি আদালতে ওঠার পর তার নম্বর হয় জিআর-১২৭/০৯। ২০১১ সালের ৩০ মার্চ বাঘারপাড়া থানায় তখন কর্মরত এসআই  গাজী আব্দুল কাইয়ুম লুটতরাজ ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩ক ধারায়  নয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে নয়জন আসামির মধ্যে সাত নম্বর আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে। চার্জশিটে এই আজিজের বয়স উল্লেখ করা হয় ৩০ বছর। আট ও নয় নম্বর আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার টেঙ্গুরপুর গ্রামের তসলিমের ছেলে হাশেম আলী ও নুর ইসলামের ছেলে শাহাজানকে। চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি বদলি করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে মামলাটির নম্বর হয় এসটিসি ৬১/১২। আদালত পলাতক আসামি আব্দুল আজিজসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিশ ২০১২ সালের ১ মার্চ আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। সেদিন আদালত আব্দুল আজিজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আব্দুল আজিজ ২০১২ সালের ৫ মার্চ জামিনে মুক্তি পান। আসামি আব্দুল আজিজের পক্ষে ওকালতনামা ও জামিননামা দাখিল করেন অ্যাডভোকেট শাহানুর আলম শাহিন। সেই থেকে আহাদ আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছেন। এই তথ্য সিংহঝুলি গ্রামের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, সম্প্রতি আসামি আব্দুল আজিজ  আদালতে গরহাজি হন। ফলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত -৪ চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এই পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ৯ ডিসেম্বর সোমবার রাতে চৌগাছা থানার এএসআই আজাদসহ পুলিশের একটি দল প্রকৃত আসামি আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে  বাদ দিয়ে মৃত আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। জজ আদালত শীতকালীন অবকাশে থাকার কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আব্দুল আজিজকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে নিরপরাধ আব্দুল আজিজ কারাগারে রয়েছেন।
সূত্র জানায়, প্রকৃত আসামি আব্দুল আজিজের বর্তমান বয়স প্রায় ৪০ বছর হলেও নতুন করে গ্রেফতার আব্দুল আজিজের বয়স প্রায় ৬১। আর আসামি আব্দুল আজিজের বাবা আহাদ আলী কারিগর জীবিত। নিরপরাধ আব্দুল আজিজের বাবা মৃত।
এব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল আজিজকে গ্রেফতারকারী এএসআই আজাদ দাবি করেন, আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক থাকার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেফতার আব্দুল আজিজের পরিবার থেকেও জানানো হয়নি যে সে মামালার আসামি না। তাহলে এখন একথা আসছে কেন? গ্রেফতার আব্দুল আজিজ যদি মামলার আসামি না হন তাহলে তাকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে। নাম ঠিকানা মিল থাকার কারণে আমাদের কিছুই করার নেই।’
নিরপরাধ আব্দুল আজিজের ভাইপো রাজু বলেন, ‘রাতে না জানাতে পারলেও সকালে আমরা জানাই যে, আমার চাচা এ মামলার আসামি না। তবু পুলিশ তাকে ছাড়েনি।’

আরও পড়ুন