এক মিনিটেই প্রস্রাব পরীক্ষার ফল, জরিমানা

আপডেট: 08:26:49 09/02/2020



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের ‘চুয়াডাঙ্গা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এই আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর গ্রামের আব্দুল হান্ননের স্ত্রী রুনা খাতুন শারিরীক সমস্যার কারণে এদিন সকাল আটটার দিকে ডা. আবুল হোসেনের কাছে যান। ডা. আবুল হোসেন তাকে কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। পরীক্ষা করানোর জন্য তিনি সদর হাসপাতাল সড়কের চুয়াডাঙ্গা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে রুনা খাতুনের প্রস্রাবের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিয়ে দেন প্রতিষ্ঠানের মালিক জাকির মুনসাদ ও টেকনিশিয়ান আতাহার আলী আকাশ।
রুনা খাতুনের সঙ্গে থাকা তার ভাগ্নে পলাশ উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা যখন সেখানে পরীক্ষা করাতে যাই, তখন চুয়াডাঙ্গা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে একটা পাত্র ধরিয়ে দিয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য বলে। আমরা ওই পাত্রে নমুনা নিয়ে সেখানে যাই। এক মিনিটের মাথায় পরীক্ষার রিপোর্ট আমার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। কীভাবে এক মিনিটে রিপোর্ট করা হলো- এমন প্রশ্ন করতেই প্রতিষ্ঠানের লোকজন দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দুই মিনিটের মাথায় আবার একটা রিপোর্ট এনে আমাদের হাতে ধরিয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানাই। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহানকে সেখানে পাঠান। এসিল্যান্ড সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম লক্ষ্য করেন।’
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা চুয়াডাঙ্গা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাই। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পাই। প্রতিষ্ঠানটিতে অব্যবস্থাপনার কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারায় মালিক জাকির মুনসাদকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
আদালত চলাকালে সহযোগিতা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট ডা. শিরিন জেবীন সুমি, আদালতের বেঞ্চ সহকারী শহিদুল ইসলাম ও সদর থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন