এদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয় না কেন?

আপডেট: 03:18:49 19/07/2021



img

নড়াইল প্রতিনিধি: কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর ও হাজরাখালী গ্রামের লোকজন ঈদে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করছেন। পুলিশও এই বিষয়ে সহযোগিতা করছে বলে দাবি তাদের। বাড়ি ফেরার পরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে তারা মানববন্ধনও করেছেন।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কালিয়া উপজেলার হামিদুপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মোস্তফা স্টোরের সামনের রোডে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ, হাজরাখালী গ্রামের তৈয়েবুর রহমান টিংকু, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ সমর্থক হাজরাখালী গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বাজারে ব্যবসা করি। আমাকে বাড়ি যেতে দেয় না এবং আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করে কমপক্ষে ১৬ লাখ টাকার বেশি নিয়ে গেছে।’
হাজরাখালী গ্রামের তৈয়েবুর রহমান টিংকু অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন বছরের বেশি সময় আমরা বাড়িছাড়া। পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারি না। এমনকি ঈদের দিনও পরিবারের সাথে দেখা করতে পারি না। স্থানীয় এমপি কবিরুল হক মুক্তির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধান করার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি।’
হামিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার সমর্থকরা জামিনে থাকার পরও দীর্ঘদিন বাড়ি যেতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার মৌখিকভাবে আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’
‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে আবারো জানাতে চাই, আমরা কোনো মারামারি করবো না। আমাদের মারলে আমরা মার খাবো, পুলিশের সহযোগিতা চাইবো বাঁচার জন্য। কিন্ত চেয়ারম্যান পলি বেগম, ঠান্ডা মোল্যাসহ তার লোকজনের মিথ্যা কথায় পুলিশ আমাদের লোকজনকে বাড়ি যেতে দিচ্ছে না। আমার সমর্থক ৩০-৪০টি পরিবার প্রায় ৪-৫ বছর বাড়িছাড়া,’ বলেন সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গোলযোগে হামলা-মামলার ভয়ে বাড়ি-পরিবার ফেলে পালিয়ে বেড়ান প্রায় অর্ধশত পরিবারের পুরুষেরা। সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোর্শেদ এবং বর্তমান চেয়ারম্যান পলি বেগমের দ্ব›েদ্বর শিকার এইসব মানুষ। তাদের অনেকের নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা হয়। মামলায় গোলাম মোহাম্মদসহ তার লোকজন আদালত থেকে জামিন পেলেও বর্তমান চেয়ারম্যান পলি বেগমসহ তার লোকজন বাড়িতে যেতে দিচ্ছে না।
তবে চেয়ারম্যান পলি বেগম ও ঠান্ডা মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, গোলাম মোর্শেদসহ তার লোকজন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
‘আমরা পুলিশ প্রশাসকে অনুরোধ করেছি আইনশৃংখলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য,’ বলেন চেয়ারম্যান পলি।
পুলিশ সুপার প্রবীরকুমার রায় বলেন, ‘আমরা কাউকে বাড়ি যেতে বাধা দিচ্ছি না। তবে এলাকার শান্তি শৃংখলার জন্য উভয় পক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে স্থানীয় এমপি মহোদয়কে সাথে নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান করার চেষ্টায় আছি।’

আরও পড়ুন