এন্ড্রু কিশোরের শেষ শ্রদ্ধার মঞ্চ

আপডেট: 02:54:05 15/07/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : রাজশাহী সিটি চার্চের আঙিনার ভেতরে সুনসান নীরবতা। সেখানে যে নীরবেই জনাকয়েক মানুষ ফুলে ফুলে একটি মঞ্চ সাজালেন, বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় ছিল না। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর চার্চের সামনের সেই মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এন্ড্রু কিশোরকে বুধবার সকালে তার ভক্ত অনুরাগীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তারপর নগরের কালেক্টরেট মাঠের পাশে খ্রিস্টানদের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
সন্ধ্যার পর সিটি চার্চে গিয়ে দেখা যায়, মিটমিটে আলোয় চার্চের সামনে টানানো একটি ব্যানারের বড় অক্ষরগুলো যেন জ্বলছিল ‘এন্ড্রু কিশোরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।’ সেই ব্যানারের ওপরের সারিতে লেখা রয়েছে ‘মেঘগুলি আমার জীবনে ভেসে আসে, আর বৃষ্টি বা সূর্যের ঝড় বহন করে না, বরং আমার সূর্যাস্তের আকাশে রং যোগ করে।’ তার নিচে বড় করে শ্রদ্ধাঞ্জলির কথা লেখা রয়েছে। তারিখ দেওয়া রয়েছে ১৫ জুলাই, ২০২০। সময় সকাল দশটা। স্থান রাজশাহী সিটি চার্চ। ডান পাশে এন্ড্রু কিশোরের একটি ছবি রয়েছে।
এই ব্যানারের সামনে এন্ড্রু কিশোরের ছেলে জয় এন্ড্রু সপ্তক ও মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা ফুল দিয়ে একটি মঞ্চ তৈরি কাজ করছিলেন। সঙ্গে আরো কয়েকজন। তারা সবাই এই কাজে পরম মমতায় সহযোগিতা করছেন। সংজ্ঞা ও সপ্তক মঞ্চের কোনায় কোনায় একটি একটি করে রজনীগন্ধার ডাঁটা অনেক যত্নে গুঁজে দিচ্ছেন। অন্যরা সহযোগিতা করছেন। রাত সোয়া আটটার দিকে এলেন এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু। এসেই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রাতের মধ্যে ফুলগুলো শুকিয়ে না যায়। কেউ কেউ বললেন, আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, রাতের মধ্যে কোনো ফুল শুকাবে না। মেয়ে চাইছিলেন পানি ছিটিয়ে দেওয়া যায় কি না। এভাবেই রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর মঞ্চ প্রস্তুত প্রায় শেষ হয়ে এলো। ছেলে ও মেয়ের অনুভূতি জানার চেষ্টা করা হলো, কিন্তু কিছুতেই কোনো কাজ হলো না। তারা কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করলেন। বোঝা গেল শোকাহত সন্তানদের দ্বিতীয়বার অনুরোধ করা মানে তাদের কষ্ট বাড়ানো।
৬ জুলাই রাজশাহী নগরের মহিষবাথান এলাকায় অবস্থিত এন্ড্রু কিশোরের বোন শিখা বিশ্বাসের বাসায় এন্ড্রু কিশোর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তারপর থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়েছে। সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এলে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান করা কথা ছিল। অস্ট্রেলিয়া থেকে ছেলে ও মেয়ে এসেছেন।
সূত্র : প্রথম আলো