এবার কার্গো ট্রেনে বেনাপোলে এলো পিকআপ ভ্যান

আপডেট: 10:51:53 28/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : কার্গো ট্রেনে বেনাপোলে ফের পণ্য এলো ভারত থেকে। সড়কপথে বনগাঁর কালিতলা পার্কিংয়ের নামে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের তৎপরতা কমাতে এবং খরচ সাশ্রয় করতে এখন বেশির ভাগ পণ্য আসবে কার্গো ট্রেনে। শুকনো ঝাল, প্রসাধনী, গার্মেন্টের ডেনিম ফেব্রিক্সের পর এবার এলো টাটা মটরসের পিকআপ ভ্যান।
কলকাতা থেকে ৫১টি পিকআপ ভ্যান নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা পাঁচটার দিকে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছায় কার্গো ট্রেনটি। পরে ট্রেন থেকে পণ্য আনলোড করে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, আমদানির নতুন দিগন্ত শুরু হওয়ার সূচনায় প্রথম দিন গত ২৬ জুলাই এসেছিল কার্গো ট্রেনে ৫০টি কন্টেইনারে গার্মেন্টসহ প্রসাধনী। মঙ্গলবার টাটা মটরসের ৫১টি পিকআপ ভ্যান একসঙ্গে এসেছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ ও সময় অনেকটা বাঁচবে। ভারত থেকে কন্টেইনার বোঝাই বিভিন্ন মালামাল এখন থেকে কার্গো ট্রেনে আসা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বন্দর একটি চার্জ পাবে। ব্যবসায়ীদের খরচ কম হবে। আগে সাধারণ রেলে পণ্য এসেছে ভারত থেকে। এখন কন্টেইনারের মাধ্যমে পণ্য আসা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা রেলপথে আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন অফ ইন্ডিয়ার বাংলাদেশ এজেন্ট টিসিআই বাংলাদেশ লিমিটেডের ভেন্ডর পার্টনার এম এম ইন্টারন্যাশনালের সত্বাধিকারী মেহের উল্লাহ বলেন, ‘আমরা ভারতের সাথে কার্গো ট্রেনে সকল ধরনের পণ্য আসায় পার্টনার হিসেবে কাজ করছি। ট্রেনে পণ্য এলে অনেক সুবিধা ও নিরাপত্তা থাকে। এখন থেকে বেশির ভাগ আমদানি পণ্য ভারত থেকে ট্রেনে আসবে। আবার রফতানি পণ্যও ওয়াগনে ভারতে যাবে সে লক্ষে কাজ করা হচ্ছে।’
বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, ভারত থেকে যে ৫১টি পিকআপ ভ্যান কার্গো ট্রেনে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে, তার চার্জ হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ এক লাখ ২৩ হাজার ৮২২ টাকা আদায় করেছে। রেলের মাধ্যমে পণ্য আসা-যাওয়া করলে রেল খাতেরও উন্নয়ন হবে।
আমদানি পণ্যবাহী সাইটডোর কার্গো ট্রেনে কন্টেইনারের মাধ্যমে সপ্তাহে প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে। রেল কন্টেইনারের মাধ্যমে বেনাপোল বন্দর দিয়ে অবাধে আমদানিযোগ্য প্রতিটি পণ্য আমদানি নীতি আদেশ পরিপালনসাপেক্ষে আমদানি করা যাবে। এ ছাড়াও বন্ডেড পণ্য, শর্তযুক্ত পণ্য অন্যান্য পণ্যের শর্তাদি পরিপালনপূর্বক আমদানি করা যাবে। তবে গুঁড়ো দুধ ও বন্ডেড সুবিধাবহির্ভূত সুতা আমদানি করা যাবে না।
পেঁয়াজ, শুকনো মরিচ, আঁদা, রসুন, হলুদ, মসুর ডাল, শুকনা বরই, তেঁতুল, তেঁতুলের বীজ, সার, স্টোন চিপস, ফ্লাই অ্যাশ, জিপসাম, খৈল, তুলা, ধানবীজ, চালসহ কাস্টম হাউস বেনাপোলের পূর্বানুমতিসাপেক্ষে বাল্ক আইটেমের অন্যান্য পণ্য বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে আমদানি অব্যাহত থাকবে। একটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ৪২টি রেলবগিতে পণ্য আমদানি করা যাবে। একটি ট্রেনের সব বগিতে সাইট-ডোর কন্টেইনারের মাধ্যমে একই আমদানিকারকের একই ধরনের বা একাধিক ধরনের পণ্য আমদানি করা যাবে। এছাড়া একাধিক আমদানিকারকের এক ধরনের পণ্য আমদানি করা যাবে। বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য আনলোডিংয়ের স্থানের কাজ বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত শেষ করবে। কাস্টমস কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পণ্য আনলোড করা হবে। পোর্ট ক্লিয়ারেন্সের ভিত্তিতে ট্রেন বন্দর ত্যাগ করবে।

আরও পড়ুন