এবার লালন স্মরণোৎসব হচ্ছে না, হতাশ ভক্তরা

আপডেট: 03:53:23 16/10/2020



img
img

শ্যামলী খন্দকার, কুষ্টিয়া : আগামীকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) পয়লা কার্তিক। উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষ আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস। এই দিবসটিকে ঘিরে প্রতিবছরই লালন স্মরণোৎসব, সাধুসঙ্গ হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার অনুষ্ঠান হচ্ছে না।
তারপরও লালন-তিরোধান দিবস উপলক্ষে দূরবর্তী স্থান থেকে কুষ্টিয়ায় আসছেনবাউল-ফকির, ভক্তরা। আখড়াবাড়ির প্রধান গেট তালাবন্ধ থাকায় সেখানে ঢুকতে না পেরে কালী নদীর তীরে লালন অ্যাকাডেমির বিশাল মাঠে জড়ো হয়েছিলেন তারা। কিন্ত দুইদিন আগে সেখান থেকেও বাউল-ফকির ও ভক্তদের বের করে দিয়ে গেটে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে। ভক্ত-অনুসারীরা এখন লালন অ্যাকাডেমির সামনের রাস্তা ও আশেপাশের এলাকায় জড়ো হচ্ছেন।
আগত বাউল-ফকির ও ভক্তরা বলছেন, তারা এখানে আসেন সাঁইজিকে স্মরণ করতে, ধর্মনীতি পালন করতে। না হলে অধর্ম হবে। করোনার কারণে স্মরণোৎসব না হোক, লালনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতেই হবে। তাই অতিদ্রুত লালন মাজারের প্রধান গেটের তালা খোলাসহ সাধুদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার দাবি করছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে গত সাত মাস লালনের আখড়াবাড়ি বন্ধ আছে। এতে করে তাদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। আবার নতুন করে তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান স্থগিত করায় চরম বিপর্যয়ে সম্মুখিন হবেন তারা।
আর লালন অ্যাকাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলছেন, দূর-দুরান্ত থেকে আসা বাউল ও ভক্তরা একসঙ্গে হলে সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সুপারিশ ও লালন অ্যাকাডেমির এডহক কমিটির সিদ্ধান্তে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্থগিত করা হয়েছে তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান।
১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক মরমী সাধক ফকির লালন শাহ তিরোধান করেন। তার পর থেকে সাঁইজি স্মরণে প্রতিবছরই তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান পালন করেন অনুসারীরা। এ উপলক্ষে আখড়াবাড়ি চত্বরে কালী নদীর তীরে মাঠে লালনমেলার আয়োজন করা হয়। আর আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে লালন অনুসারী, ভক্তদের খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় গুরু-শিষ্যের মধ্যে চলে লালনের জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা; পরিবেশিত হয় লালন রচিত গান। আর রাতে লালন মঞ্চে চলে সাঁইজির জীবন কর্মনিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।