এর নাম রাস্তা!

আপডেট: 03:06:21 16/11/2016



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) :    পাইকগাছার বেহাল ও জরাজীর্ণ রাস্তাটির নাম কেকচিবুনিয়া কেয়ারের রাস্তা। প্রভাবশালী ঘের মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রাস্তাটি লিজ ঘেরের ফাঁড়িতে পরিণত হয়েছে। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের বাসাখালী ওয়াপদা রাস্তা থেকে হোগলারচক গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ কেকচিবুনিয়া কেয়ারের রাস্তা। গত শতকের ৮০ দশকের দিকে উপরে ১২ ফুট এবং তলদেশ ২৪ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট রাস্তাটি তৈরি করা হয়। তৈরির পর থেকে বাসাখালীর হোগলারচক, আমিরপুর, বাইনবাড়িয়া, কুমখালীসহ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার লোকজন চলাচল করত।
স্থানীয়রা বলছেন, কিন্তু ৯০ দশকের দিকে রাস্তাটির দুই পাশে গড়ে ওঠে প্রভাবশালীদের মাছের লিজ ঘের। বেহাল ও জরাজীর্ণ হয় রাস্তাটি। লিজ ঘেরের পানির তোড়ে কেয়ারের রাস্তা ভাঙতে ভাঙতে পুরোপুরি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে রাস্তাটি এখন লিজ ঘেরের ফাঁড়িতে পরিণত হয়েছে। জনচলাচলের অযোগ্য হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও রাস্তা একেবারেই ‘নেই’ হয়ে গেছে। এ কারণে এলাকার মানুষকে পাইকগাছা সদরে আসতে প্রায় দশ কিলোমিটার বেশি ঘুরে গড়ইখালী অথবা শুড়িখালী হয়ে আসতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত খরচও প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
কেয়ারের রাস্তার পাশে মফিজুল ইসলাম টাকু, গনি সানা, বিজন বাইন, প্রদীপ বাইন, জাকির সানা, নান্টু সরদারসহ অনেক লোকের মাছের লিজ ঘের রয়েছে।
ইউপি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে প্রার্থীরা জয়ী হয়ে রাস্তাটি সংস্কারের প্রতিশ্র“তি দেন। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিরা পরে আর এদিকে ফিরে তাকান না বলে অভিযোগ ভোগান্তির শিকার এলাকাবাসীর।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হান্নান গাজী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল রাস্তা সংস্কারের। সে মোতাবেক আমি আন্দোলন করে যাচ্ছি। চেয়ারম্যানকে বার বার বলছি। দেখা যাক কতদূর করতে পারি।’
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, কয়েকবার কেয়ারের রাস্তাটি সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী ঘের মালিকরা লিজ ঘের থেকে পানি না সরানোর কারণে মাটি পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে বার বার আলোচনা হলেও সাড়া মেলেনি।

আরও পড়ুন