এ বছর ইউরোপ যাবে না কলারোয়ার আম

আপডেট: 05:07:26 18/05/2020



img
img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : কলারোয়ায় প্রান্তিক আমচাষিরা বিষমুক্ত আম রপ্তানির লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে চলতি বছর বিদেশে আম রপ্তানির কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখছেন না কৃষি কর্মকর্তারা। ফলে চাষি ও ব্যবসায়ীদের দেশের বাজারে আম বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাদে, গুণে ও মানে বিখ্যাত কলারোয়ার আম বেশ কয়েকবছর ধরে ইউরোপের বাজারে রফতানি হচ্ছে। যদিও চলতি মৌসুমে ফলন অনেকটা কম। এর মধ্যে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে এসেছে করোনাভাইরাস দুর্যোগ।
এই খাতে যুক্তরা মনে করছেন, রাজধানীসহ সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে বাজারজাত করা গেলে চাষিদের লোকসান কমানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অপরিপক্ক আম সরবরাহ বন্ধসহ চাষিদের সঙ্কট নিরসনে নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
কলারোয়া উপজেলার সিংগা গ্রামের আম ব্যবসায়ী কবিরুল ইসলাম। ১৬ লাখ টাকার আমের বাগান রয়েছে এই ব্যবসায়ীর। করোনা পরিস্থিতিতে তিনি আম বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।
তিনি বলেন, এ বছর ১৬ লাখ টাকার আমবাগান কেনা রয়েছে। খরচ বাদেও পাঁচ লাখ টাকা লাভ হবে- এমন আশা ছিল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর তিনি ঢাকায় আম বিক্রি নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।
‘এই আমের ব্যবসা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো কারবার নেই। বছর শেষে একবার আমের ব্যবসায় উপার্জিত অর্থ দিয়েই চলে আমাদের সংসার।’
তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর গুঁটি আম (কাঁচা আম) বিক্রি হয় ৪-৫ লাখ টাকার। এ বছর তাও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। দোকানপাট, হাট-বাজার বন্ধ, পরিবহন সমস্যা। এ ছাড়া আম ভাঙার শ্রমিকও সংকট। নানা কারণে এ বছর আম ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তবে যদি সঠিকভাবে বাজারজাত করা যায় তবে ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া অসাধু অনেক ব্যবসায়ীও রয়েছেন, যারা অপরিপক্ক আম ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য বা কেমিকেল মিশিয়ে বাজারজাত করে থাকেন।
একই গ্রামের আম চাষি ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমের ফলন ভালো হয়নি। যেটুকু হয়েছে তা স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করতে হবে। গত বছর খুলনা ও ঢাকায় নিয়ে আম বিক্রি করেছিলাম। এ বছর হয়তো তা আর সম্ভব হবে না।’
কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মহাসীন আলী জানান, চলতি বছর পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় বিদেশে আম রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। তবে আম রপ্তানি না হলেও দেশের বাজারে চাষিরা বেশ লাভে আম বিক্রি করতে পারবেন।
এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে কলারোয়া উপজেলায় ৬০২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। মোট দুই হাজার ৬০০ ছোট-বড় বাগান রয়েছে। এ সব বাগান থেকে প্রায় ৪০০ টন আম উৎপাদন হয়। এ থেকে গড়ে ১০০ টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হতো। উৎকৃষ্ট আমের মধ্যে রয়েছে হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি। এছাড়া রয়েছে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, লতাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির আম।
এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অপরিপক্ক আম কেমিকেল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। খবর পেলে প্রশাসনও অভিযান চালিয়ে সেগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে কলারোয়ায় দুই ট্রাক কেমিকেলমিশ্রিত অপরিপক্ক আম ভ্রাম্যমাণ আলাদত পরিচালনা করে ধ্বংস করা হয়েছে। ওই আম রাজধানীতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, আগামী ৩১ মে থেকে হিমসাগর, ৭ জুন ল্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আম্রপালি আম ভাঙা ও বাজারজাতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে যদি কোনো বাগানের আম পাকে, তবে সেটি কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে তারা ব্যবস্থা নেবেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সাতক্ষীরা জেলার আমের সুনাম রয়েছে। সেই সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। নির্ধারিত দিনের আগে গাছ থেকে আম ভাঙা যাবে না মর্মে ব্যবসায়ী ও চাষিদের সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরিপক্ক আম কেমিকেল মিশিয়ে বাজার করার চেষ্টা করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন