ঐতিহ্যবাহী ঝাপান খেলায় মুগ্ধ দর্শক

আপডেট: 09:35:41 28/10/2019



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : বিষধর সাপ দেখে ভয় পায় না এমন মানুষ কমই আছে। আর সে সাপ বশে আনার কসরত দেখানো ঝিনাইদহ অঞ্চলের ঐতিহ্য।
ঐতিহ্যবাহী এই খেলার নাম ‘ঝাপান’।
ঐতিহ্যবাহী এই সাপের খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাদামতলা বাজারে। এ খেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছয়জন সাপুড়ে প্রায় অর্ধশত সাপ নিয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে আকর্ষণীয় কসরত ও সাপ প্রদর্শন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
রোববার বিকেলে স্থানীয় বাজার কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাপের খেলা দেখতে দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাজারে ভীড় করে।
ভয়ঙ্কর এ খেলায় দেশীয় বাদ্যের তালে তালে ফণা তোলা বিষধর সব সাপের সঙ্গে নানা অঙ্গভঙ্গিতে নেচে নেচে দর্শকদের মন ভরিয়ে তোলেন। সাপুড়ের ইশারায় সাপের এই অঙ্গ ভঙ্গি প্রদর্শনের দুর্লভ এ দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। খেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন জেলার শৈলকুপা উপজেলার ভাটই এলাকার সাপুড়ে সোহেল হোসেন।
ঝিনাইদহ শহর থেকে আসা নীলা আশিকী নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমি জীবনে প্রথম ঝাপান খেলা দেখছি। আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি চাইবো এ ধরনের আয়োজন যেন প্রতি বছর হয়।’
সাদিয়া আফরিন নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, ‘আমি শহরে থাকি। ঝাপান খেলার কথা শুনে আমার বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। আমিও দেখছি বাচ্চারা দারুণ উপভোগ করছে। সাপ সম্পর্কে ওদের ধারণা ছিল না।’
পোড়াহাটি এলাকার রাশেদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বয়োবৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিশুরা উপস্থিত থেকে নিবিড় দৃষ্টিতে উপভোগ করেন। খেলাকে ঘিরে এখানে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। ঐতিহ্যবাহী মনোমুগ্ধকর ঝাপান খেলা না দেখলে বোঝা যাবে না এর রূপ।
শৈলকুপা থেকে আসা লিটন সাপুড়ে বলেন, ‘মূলত আমাদের পেশা এটা না। আমরা মানুষকে আনন্দ দিই। আর খেলা করে আনন্দ পাই। এজন্যই দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ঝাপান খেলা করি। মানুষের ভালোবাসা আমাদের টানে।’
ঝাপান খেলার আয়োজক বাদামতলা বাজার কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য শওকত আলী বলেন, বাংলার ঐহিত্যবাহী এ খেলা দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে আর এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতেই এ আয়োজন।

আরও পড়ুন