করোনাকালেও চৌগাছা পশুহাটে গাদাগাদি

আপডেট: 09:19:11 06/07/2020



img
img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : প্রতিদিনই বাড়ছে চৌগাছায় করোনা রোগীর সংখ্যা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু এর কিছুরই প্রভাব পড়ছে না পশুর হাটে।
কুরবানির ঈদ চলে আসায় গ্রাম-গঞ্জ থেকে পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে হাটে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বালাই নেই। এ অবস্থা দেখে চিন্তিত সচেতন মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্র টেংগুরপুরে অবস্থিত উপজেলার একমাত্র পশু হাটটি। সপ্তাহের রবি ও বুধবার এখানে হাট বসে। পাশের ঝিকরগাছা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর উপজেলা থেকে এখানে গরু-ছাগল বেচা-কেনা করতে আসেন কয়েক হাজার মানুষ। হাটে হাজার হাজার লোক থাকলেও তাদের অধিকাংশেরই মুখে মাস্ক নেই। অনেককে আবার খালি গায়ে বাজারের মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।
এদিকে এ উপজেলায় করোনা রোগীদের অধিকাংশের অবস্থান পৌরএলাকায়; যার সংখ্যা ২৬। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এ নিয়ে সচেতনদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে আসা গরুর ব্যাপারি আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এক নসিমনে আটজন ব্যাপারি এসেছি।’
মুখে মাস্ক না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাস্ক আমাদের পকেটে আছে। সব সময় ব্যবহার করে কান ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। এভাবে গরমে আর পারা যায় না।’
শারীরিক দূরত্বের কথা তুলতে তার জবাব, ‘গরুর হাটে ওসব চলে না।’
পশুর হাটের পুব পাশে রেজাউলের চায়ের দোকান। সামনে তিনটি বেঞ্চ। এখানে গাদাগাদি করে বসে আছেন ১৬-১৭ ব্যক্তি। পাশেই আরো দশ বারো জন দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। কেউ চা পান করছেন, কেউ পান চিবুচ্ছেন আর কেউ চায়ের জন্য অপেক্ষা করছে। রেজাউল আর তার স্ত্রী চা আর পান তৈরির কাজে সব সময় ব্যস্ত। দোকানে বসা অনেকেরই মুখে মাস্ক নেই। আবার যাদের কাছে আছে, তাদের বেশিরভাগেরই নাকের নিচে আর কানে ঝোলানো।
পলুয়া গ্রাম থেকে পাঁচটি ছাগল বিক্রি করতে আসা ইরাদ আলী বলেন, ‘ভাইরে করোনার থেকে বেশি জ¦ালায় আছি। পেটে ভাত না থাকলে মুখে মাস্ক আর সামাজিক দূরত্ব দিয়ে কী হবে?’
সবথেকে বেশি ভিড় দেখা যায় খাজনা আদায়ের অফিসের সামনে। এখানে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন লোকেরা। গরমে কাহিল এইসব মানুষের ভাষ্য, দু’-তিন জায়গায় খাজনা নিলে ভালো হতো।
বাজারের পাশেই আতিয়ার রহমানের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘গরুর হাটের এ পরিবেশের কারণে করোনা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। হাট নিয়ে আমাদের যে সমস্যা, তার থেকে সমস্যা হলো, এদের (ক্রেতা-বিক্রেতা) করোনা সচেতনতা নিয়ে কোনো জ্ঞান নেই। দূরত্ব মেনে হাট চালালে আমরা সবাই বাঁচতে পারি।’
এদিকে পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে এ হাটের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। হাট এখন পৌরসভার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। বাজারে প্রতিদিন করোনা সচেতনতার ব্যাপারে মাইকিং করা হলেও পশুর হাটে তেমন ব্যবস্থা নেই।
পৌরসভার সচিব আবুল কাশেম বলেন, ‘জীবনটা আমার, আর এ ব্যাপারে আমাকেই সচেতন হতে হবে। আমরা পৌরসভায় বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি বলেন, শারীরিক দূরত্ব না মানলে সবাইকেই বিপদে পড়তে হবে। হোক সেটা গরুর হাট বা অন্য কোনো জায়গা। তবে এখানে (পশুর হাটে) একটু বেশি কেয়ার নেওয়া দরকার।
বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম বলেন, কোর্টের একটা আদেশের কারণে এ হাট এখন খাসভাবে পৌরসভা পরিচালনা করছে। তারাই এ ব্যাপারে ভালো ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আরও পড়ুন