কর্মকর্তার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালক, বেঘোরে রোগীর মৃত্যু

আপডেট: 03:44:27 17/10/2020



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সুফিয়া বেগম (৬৫) নামে এক নারী সুচিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মণিরামপুর হাসপাতালে মারা যান তিনি।
অভিযোগ করা হচ্ছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রারানী দেবনাথ অ্যাম্বুলেন্স চালককে নিয়ে দাপ্তরিক কাজে বের হওয়ায় মুমুর্ষু অবস্থায় সুফিয়া বেগমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করতে পারেননি জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। ফলে হাসপাতালের বারান্দায় মৃত্যু হয় বৃদ্ধার।
সুফিয়া বেগম উপজেলার চান্দুয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ মোড়লের স্ত্রী। সকালে তিনি মোহনপুর এলাকায় মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। রাস্তা পার হতে গিয়ে সকাল সাড়ে দশটার দিকে তিনি ইজিবাইকের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। সঙ্গে স্বজনরা কেউ না থাকায় পৌনে ১১টার দিকে দুই পথচারী তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় কামালপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবুল আক্তার বলেন, ওই বৃদ্ধার মাথা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে তিনি অজ্ঞান ছিলেন। বৃদ্ধার সঙ্গে কেউ ছিলেন না। দ্রুত তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর দরকার ছিল। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালককে নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কোথায় যেন গেছেন। সেই জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। দেড়-দুই ঘণ্টা ধরে বৃদ্ধা মুমুর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিলেন। ডাক্তাররাও ভালো চিকিৎসা দেননি। এরপর খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্বজনরা এসে ভাড়ায় চালিত কারে করে রোগীকে যশোরে নিতে চান।
কারে বৃদ্ধার অক্সিজেনের দরকার ছিল। হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিচ্ছিলেন না ডাক্তাররা। পরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রাকে ফোন করে সিলিন্ডারের অনুমতি মেলে। কিন্তু হাসপাতালের দোতলা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামাতে নামাতে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। পরে বৃদ্ধার মেয়েরা লাশ বাড়ি নিয়ে যান বলে জানান কাউন্সিলর।
মণিরামপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমন নাগ বলেন, ‘বৃদ্ধার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় বারবার বমি হচ্ছিল। পরে মাথা দিয়ে কিছুটা রক্তক্ষরণ হয়। তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করার দরকার ছিল। অ্যাম্বুলেন্সের চালক বা বৃদ্ধার স্বজনরা কেউ না থাকায় তাকে রেফার করা সম্ভব হয়নি।’
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক একলাস হোসেন বলেন, ‘স্যার নতুন গাড়ি পেয়েছেন, কিন্তু চালক পাননি। তাই সকাল থেকে স্যারের গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে কয়েকটা ইপিআই কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। দুপুর একটার দিকে হাসপাতালে ফিরেছি।’
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের চালককে নিয়ে ফিল্ডে গিয়েছিলাম। তাই হাসপাতালে একটু সমস্যা হয়েছে। আমি খবর পেয়ে দ্রুত ফিরে এসেছি। তারমধ্যে রোগীর স্বজনরা কার ভাড়া করে তাকে যশোরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে পথে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।’
অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজের গাড়ি ও চালক নিয়ে ঝিকরগাছা থেকে মণিরামপুর হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন। নিজের চালককে বসিয়ে রেখে তিনি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালককে নিয়ে সরকারি গাড়িতে করে নিয়মিত ইপিআই কেন্দ্র ভিজিটে বের হন।
লাশের ময়নাতদন্ত হওয়ার ভয়ে রোগীর স্বজনরা এসব নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন