কলারোয়ায় জনপ্রিয় হয়েছে পানিফল চাষ

আপডেট: 10:03:33 30/11/2019



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়ায় জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পানি ফলের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পানি ফলকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘পানি সিঙ্গাড়া’। ফলটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় বর্তমানে পানিফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, গত পাঁচ বছর আগে পরিচিতি পাওয়া পানিফল গত বছরের মতো চলতি বছরও কলারোয়ার গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা, যশোর, মাগুরা, বরিশাল, ঝিনাইদহ, খুলনা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রি হবে। ইতিমধ্যে পাইকারি ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ শুরু করেছেন।
কলারোয়া উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ হোসেন, রফিকুল, হান্নানসহ কয়েকজন চাষি জানান, প্রতিবছর এলাকায় জলাবদ্ধ জমি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে পতিত জমিতে বিকল্প হিসেবে তারা এ পানিফল চাষ বেছে নিয়েছেন।
চাষিরা আরো জানান, কলারোয়ায় চার বছর আগে গোপীনাথপুর গ্রামের গফুর নামে এক কৃষক কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে বীজ এনে পানিফলের চাষ করে লাভবান হন। সেসময় থেকে এলাকায় এটি ‘পানি সিঙ্গাড়া’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর থেকে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পানিফল চাষ শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোপীনাথপুর, তেলকাড়া, মুরারিকাঠি, লোহাকুড়া গ্রামসহ কয়েকটি এলাকার জলাবদ্ধ জমিতে পানিফলের চাষ করা হয়েছে।
গোপীনাথপুরের পানিফল চাষি হান্নানসহ কয়েকজন জানান, এখনো পরিচর্যার কাজ চলছে। কেউ কেউ ফল তুলতে শুরু করেছেন। তবে কিছু দিনের মধ্যে প্রতিগাছের ফল পাওয়া যাবে। কার্তিক মাসের শেষে এই ফল বিক্রি শুরু হয়।
মূলত, কচুরিপানার মতো পানিতে ভেসে থাকা গাছে গাছে কিছুটা লাল-সবুজ বর্ণের ফলটির নাম পানিফল। সিঙ্গাড়ার মতো দেখতে অনেকটা।
তারা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার পানিফল পাওয়া যায়।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহসীন আলী বলেন, কলারোয়া উপজেলায় পানিফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এরফলে একদিকে জলাবদ্ধ পতিত জমির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে কৃষকরা কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছে। চলতি বছর উপজেলায় ৮০ থেকে ১০০ বিঘা জমিতে পানিফলের চাষ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন