কসবার পাশাপাশি বেজপাড়ায় এতো করোনা রোগী!

আপডেট: 02:20:41 26/06/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে আজ শনাক্তদের সিংহভাগই শহরের বাসিন্দা। এদিন প্রকাশিত ফলাফলে রেড জোন অভয়নগরের কোনো রোগীর নাম নেই।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার নতুন করে পজেটিভ হওয়া ২৩ জনের মধ্যে ১৪ জনই যশোর শহরের বাসিন্দা। এছাড়া আরো দুইজন এমন স্থানে বসবাস করেন যে, তা পৌর এলাকার বাইরে হলেও শহরের বাইরে বলা যায় না। শহরে করোনা রোগী হিসেবে এদিন বেজপাড়া ও পুরাতন কসবা এলাকার পাঁচজন করে মোট দশজন শনাক্ত হয়েছেন। শহরের পুরাতন কসবা এলাকাকে আগেই রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বেজপাড়ায় এর আগে একদিনে এতো সংখ্যক রোগী কখনো শনাক্ত হননি।
আজ শনাক্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৯। আর নারী চার। শনাক্তদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, পুলিশ, শিক্ষার্থী, গৃহিণীসহ নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ রয়েছেন।
আজ যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার যেসব ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে তারা হলেন, জেনারেল হাসপাতালের ৪০ বছর বয়সী এক সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী, একজন এনজিও কর্মী (৫৫), ৪০ বছর বয়সী এক শিক্ষিকা এবং ৪২ বছর বয়সী এক গৃহিণী।
শহরের বেজপাড়া এখনো ইয়োলো জোনের অন্তর্ভুক্ত। আজ একদিনে পাঁচজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হওয়ায় এলাকাটিকে রেড জোনভুক্ত করা হবে কি-না জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন রাতে সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘এখনই রেড জোন ঘোষণা করা হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন এলাকার অবস্থা জানানো হয়েছে ডিজি হেলথকে। তিনিই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’
রেড জোন ঘোষিত শহরের পুরাতন কসবা এলাকার আরো পাঁচজন বাসিন্দার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন, টালিখোলার বাসিন্দা ও ওষুধ কোম্পানি রেনেটার ৩০ বছর বয়সী এক কর্মী, একই পাড়ার একই কোম্পানির আরেক কর্মী (৩৫), ৪০ বছরের এক ব্যক্তি (বিস্তারিত তথ্য নেই), ওই পাড়ার বাসিন্দা ও সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার সেকেন্ড অফিসার শাহজাহান কবীর (৫৬) এবং মিশনপাড়ার বাসিন্দা কোতয়ালী থানার এসআই মতিয়ার রহমান (৪৫)।
পুরাতন কসবা-সংলগ্ন আরবপুর এলাকায় আগে থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বেশ কয়েকব্যক্তি শনাক্ত হন। আজ সেখানকার আরো এক বাসিন্দা করোনা পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তিনি হলেন, রেনেটা কোম্পানির ৪০ বছর বয়সী এক কর্মী।
এছাড়া যশোর শহর ও শহরতলীর বাসিন্দাদের মধ্যে শনাক্তদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কারাগারের এক রক্ষী, যিনি শেখহাটি এলাকায় বসবাস করেন। রয়েছেন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মী, যার বসবাস রবীন্দ্রনাথ সড়কে। চাঁচড়া রায়পাড়ার ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী এবং শহরতলীর পুলেরহাট এলাকার ৪৫ বছর বয়সী আরেক ব্যবসায়ী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের নমুনা পজেটিভ ফল দিয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীও আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।
এদিন শনাক্তদের মধ্যে অভয়নগরের কোনো বাসিন্দা নেই। গেল কিছুদিন ধরে এই উপজেলায় ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হচ্ছিলেন। যশোরে শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমজনও অভয়নগরের বাসিন্দা।
কিন্তু আজ আসা ফলে এই জেলার কোনো বাসিন্দার নাম না থাকার বিষয়টি জানতে চাওয়া হয় যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের কাছে। তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ওই এলাকার হয়তো কোনো স্যাম্পল ল্যাবে পাঠানো হয়নি। বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন জেলার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে ফোকালপারসন হিসেবে দায়িত্বরত ডা. মো. রেহেনেওয়াজ।
যোগাযোগ করা হলে ডা. রেহেনেওয়াজ সুবর্ণভূমিকে বলেন, অভয়নগর থেকে সংগ্রহ করা স্যাম্পল বুধবার ল্যাবে পাঠানো হয়নি। সেগুলো সংরক্ষণ করে আজ বৃহস্পতিবার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
আজ শনাক্ত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫৫ বছর বয়সী এক কর্মী; বাঘাপাড়ার উপজেলার ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি; একই উপজেলার বহরমপুরের ৩৯ বছর বয়সী এক বাসিন্দা, যিনি ইসলামী ব্যাংক অভয়নগরের নওয়াপাড়া শাখায় চাকরি করেন; শার্শার নাভারন এলাকার ৫০ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী; একই উপজেলার ৬০ বছর বয়সী এক কৃষক, যিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের ৫৬ বছর বয়সী এক গৃহিণী এবং মণিরামপুরের ৫৩ বছরের এক ব্যক্তি।

আরও পড়ুন