কালীগঞ্জে আলামত উদ্ধারে গিয়ে ‘আক্রান্ত’ পুলিশ

আপডেট: 02:31:03 09/01/2020



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে মাদরাসাছাত্র আলামিন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে গিয়ে আসামি পক্ষের লোকজনের হামলায় ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আসামি পক্ষের লোকজন।
আহতরা হলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহেল হোসেন, এসআই হুমায়ন, এএসআই হাফিজুর রহমান, এএসআই মো. জাফর ও এএসআই আব্দুল খালেক। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাত দশটার দিকে কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এর পর সাবেক পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর ভাই মুশফিকুর রহমান ডাবলু ও মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত পুলিশ সদস্যদের দাবি, তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। কিন্তু আসামি পক্ষের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছে, ছুরি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে অন্য একটি ছুরি ধরিয়ে জোর করে ছবি তোলার চেষ্টা করে পুলিশ। এতে তারা বাধা দেন।
এর আগে বুধবার সকালে মাদরাসাছাত্র আল-আমিন হত্যায় জড়িত সন্দেহে আটক সাব্বির ও হৃদয়কে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। পুলিশের ভাষ্য, তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই এলাকার একটি পুকুরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও অন্য আলামত উদ্ধারে যায় পিবিআইয়ের একটি দল। ডুবুরিরা দিনভর চেষ্টার পর ছুরি না পেয়ে বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পুকুরের পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়। রাত দশটার দিকে পুকুর থেকে ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় আটক আসামিদের নিয়ে ছুরিসহ ছবি তোলার সময় পিবিআই সদস্যদের ওপর হামলা করে তাদের বেধড়ক মারপিট করে আসামি পক্ষের লোকজন। তারা পিবিআই’র একজন সদস্যকে আটকেও রাখে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এছাড়া সেখান থেকে হত্যা মামলার আসামি সাব্বিরের বাবা মুশফিকুর রহমান ডাবলু ও তার চাচা মোস্তাক আহম্মেদ লাভলুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলছেন, সকাল থেকেই এই মামলার আসামিদের নিয়ে আলামত উদ্ধারে আড়পাড়া এলাকায় অবস্থান করছিল পিবিআই। রাত দশটার দিকে ছুরি উদ্ধার হলে সাব্বিরকে ওই ছুরি দিয়ে স্বীকারোক্তি নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা করে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এসময় সোহেল হোসেন ও হাফিজুর রহমানসহ পিবিআইয়ের পাঁচ সদস্য আহত হন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ পিবিআই সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি। তাদের বেশ মারধর করা হয়েছে। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
গেল বছরের ৩০ নভেম্বর রাতে বাড়ির পাশে ওয়াজ শুনতে যাওয়ার পর আল আমিন নিখোঁজ হয়। এর চারদিন পর ওই এলাকায় নির্মাণাধীন একটি  চারতলা ভবনের পেছন থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আল-আমিন আড়পাড়ার আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যবসায়ীর ছেলে। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান আল-আমিন শহরের সাওতুল হেরা হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিল।
লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। আটক তারিক হাসান সাব্বির সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর ভাই মুশফিকুর রহমান ডাবলুর ছেলে এবং ইয়াছিন আরাফাত হৃদয় একই এলাকার আব্দুস সামাদ ওরফে মিল্টনের ছেলে।
পুলিশ বলছে, আটকের পর তারা আল-আমিন হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তাদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক পিবিআই সদস্যরা বুধবার সকালে ওই গ্রামের রবিউল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার পুকুরে ছুরি উদ্ধারের কাজ শুরু করে। হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয় বলেও তারা পুলিশ হেফাজতে জানিয়েছে।
ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের ইনসপেক্টর সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি। সেই মোতাবেক আসামিদের উপস্থিতিতে উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। যে কোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সংবাদকর্মীদের জানানো হবে।’

আরও পড়ুন