কালীগঞ্জে ৫০ শতক জমির লাউক্ষেত ধ্বংস

আপডেট: 08:16:04 22/09/2020



img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক কৃষকের ৫০ শতক জমির লাউক্ষেতের গাছগুলো কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতে কে বা কারা এই গাছগুলো কেটে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলছেন, এই জমিতে তার ২৫০টি লাউগাছ ছিল; যেগুলোতে লাউ আসতে শুরু করেছিল। তার দাবি, এতে তার কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামের মাঠে এই লাউক্ষেত কেটে দেওয়া হয়।
কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, তিনি ছয় বিঘা জমিতে নানা ফসলের চাষ করেন; যার মধ্যে বেশির ভাগই থাকে সবজি। এবছর এক বিঘা জমিতে বেগুন, দুই বিঘা জমিতে মুলা, কিছু অংশে ওল, হলুদ আর ৫০ শতকে লাউয়ের চাষ করেছিলেন। গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে এই লাউক্ষেতে বীজ বপন করা হয়। ‘ডায়না’ নামে হাইব্রিড জাতের লাউ হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যে গাছগুলো বড় হয়ে যায়। প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ করে সেখানে টাল দেন তিনি। গাছগুলো টালে ওঠার পর ফুল আসতে শুরু করে। কিছু কিছু গাছে লাউও ধরেছে। এ পর্যন্ত তার এই ক্ষেতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা; যার বেশির ভাগ তিনি ধার-দেনা করে সংগ্রহ করেছেন।
কৃষক আতিয়ার রহমান আরো জানান, গত দেড় মাস তিনি এই ক্ষেতে পড়ে থেকেছেন। সবকিছু নিজেই তদারকি করতেন। প্রতিটি গাছেই তার হাতের ছোঁয়া রয়েছে।
তিনি জানান, সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি এই ক্ষেতে ছিলেন। এরপর বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ক্ষেতের মধ্যে গিয়ে দেখেন, সবগুলো গাছের পাতা টালের উপর নুয়ে পড়েছে। কারণ খুঁজতে গিয়ে গাছের গোড়ায় হাত দিয়ে দেখেন গাছগুলোর গোড়া কাটা। একে একে সবগুলো গাছ কাটা দেখতে পান। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সংবাদকর্মীদের কাছে দুঃখ করে বলেন, তার আশা ছিল এই ক্ষেত থেকে আড়াই লাখ টাকার লাউ বিক্রি করবেন। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ভাবনা কীভাবে দেনা পরিশোধ করবেন।
আতিয়ার জানান, এভাবে ফসলের ক্ষতি করবে তার তেমন কোনো শত্রু নেই। ফসলের সঙ্গে এভাবে কেউ শত্রুতা করতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, এই ক্ষতি কোনোভাবেই মানা যায় না। গাছগুলো কৃষকের কাছে তার সন্তানের মতো। সেভাবেই তিনি বড় করেছেন। যারা এই ফসলের ক্ষতি করেছে প্রশাসন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন- এটাই সকলের প্রত্যাশা।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিকদার মো. মোহাইমেন আক্তার জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতটি পরিদর্শন করেছেন। কৃষক যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও তাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবর্ণারানী সাহা বলেন, ওই কৃষক লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন