কী ঘটতে চলেছে সাকিবের ভাগ্যে

আপডেট: 02:31:06 29/10/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারত সফরে যাবে বুধবার। এই সফর দিয়ে পরে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও শুরু হবে বাংলাদেশের পথচলা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে মাঠের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সামান্যই। বরং মাঠের বাইরের অনেক কিছু নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর তা গোপন করার অভিযোগে সাকিব আইসিসির তদন্তের যে খবর মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তাতে ভারত সফরে তার না যাওয়া এখন অনেকটাই নিশ্চিত।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল অবশ্য বলেছেন, সাকিবের ভাগ্যে যাই ঘটুক, বিসিবি তার পাশে থাকবে।
ভারত সফরের জন্য সাকিবকে অধিনায়ক রেখেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করা হয়েছে কয়েক দিন আগে। তবে দলের অনুশীলনে সাকিবের অনুপস্থিতি দেখে ডালপালা মেলছিল নানা গুঞ্জন।
ক্রিকেটারদের ধর্মঘট শেষ হওয়ার পর গত শুক্রবার শুরু হয় ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি। কিন্তু অনুশীলনের প্রথম দিনই ছিলেন না অধিনায়ক। তার না-থাকা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছিলও না বিসিবি। পরে জানা যায়, অসুস্থতার জন্য কোচের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন সাকিব। পরদিন তিনি অনুশীলনে যোগ দেন।
রোব ও সোমবার ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেললেও সাকিব একটিও খেলেননি। তাতে নতুন করে মাথাচাড়া দেয় অনেক প্রশ্ন। বিসিবি এবারো স্পষ্ট করছিল না কোনো কিছু। পরে সোমবার রাতে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান জানান, ভারত সফরের জন্য পরিবর্তিত টি-টোয়েন্টি দল জানানো হবে মঙ্গলবার। তাতে গুঞ্জনগুলো শক্ত ভিত পায় আরো।
মঙ্গলবার দেশের একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বছর আগে জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েও আইসিসি বা বিসিবি-কে জানাননি সাকিব।
এটি সত্যি হলে, আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ধারা ভঙ্গের জন্য শাস্তি পেতে হতে পারে ক্রিকেটদুনিয়ার এই খ্যাতিমান অলরাউন্ডারকে। অবশ্য আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির দুর্নীতিবিরোধী ধারা অনুযায়ী, কারো কাছ থেকে অনৈতিক কিছুর প্রস্তাব পেলে যত দ্রুত সম্ভব আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাতে হয়। প্রতিটি সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের ক্লাস নিয়ে এ নিয়ম মনে করিয়ে দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী, এই ধারা ভঙ্গের শাস্তি হতে পারে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা।
বিসিবির বেশ কয়েকজন পরিচালককে ফোন করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি কেউ। ভারত সফরের টি-টোয়েন্টি দলের পরিবর্তনগুলো ঘোষণা করা হলে সেখানে একটি ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সেই দল ঘোষণার কোনো খবর নেই।
আর অধিনায়ক সাকিবও নিশ্চুপ। সকাল থেকে তার বাসার সামনে অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীরা কোনো সাড়া পাননি। ফোনেও কোনো উত্তর মিলছে না দেশসেরা এই অলরাউন্ডারের কাছ থেকে।
সূত্র : বিডিনিউজ