কুরবানির জন্য সুস্থ পশু চেনার উপায়

আপডেট: 01:59:42 17/07/2021



img

সাদ্দিফ অভি: ত্যাগের মহিমায় আর কয়েক দিন পর উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। শুরু হয়েছে পশুর হাটে কেনাবেচা। কুরবানির উদ্দেশে কেনা পশুটি সুস্থ কি-না তা নিয়ে অনেকে চিন্তিত। তবে কয়েকটি বাহ্যিক অবস্থা দেখলেই জানা যাবে পশুটি সুস্থ আছে কিনা। তা ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, স্টেরয়েড কিংবা গ্রোথ হরমোন দিয়ে হৃষ্টপুষ্ট বানানোর ঘটনা বর্তমানে নেই বললেই চলে। তবে সেক্ষেত্রেও আছে চেনার উপায়।
নিরাপদ কুরবানির ক্ষেত্রে পশু পালনকারী, পশু বিক্রেতা এবং ক্রেতাকে কিছু জিনিস লক্ষ্য রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। পশু যারা প্রতিপালন করেন তাদের ক্ষেত্রে পশুকে পরিষ্কার, উঁচু, শুকনো ও আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পশুকে নিরাপদ পানি ও খাবার প্রদান, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু পালন, রোগাক্রান্ত পশু ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বলছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত স্টেরয়েড হরমোন এন্টিবায়োটিক ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার ও বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রাণীর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলে ‘প্রত্যাহারকাল’ শেষ হওয়া পর্যন্ত পশু বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে।
যারা পশু বিক্রি করবেন তাদের জন্য বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে পশু বিক্রি করতে হবে। পরিবহনের সময় পশুর সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। বিক্রির জন্য পশু সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে এবং হাট-বাজারে পশু অসুস্থ হলে নিকটস্থ প্রাণী চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।

ক্রেতারা যেভাবে সুস্থ পশু চিনবেন
কুরবানির জন্য সুস্থ-সবল পশু কেনার ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে চেনার উপায় হচ্ছে সতেজ, স্বাভাবিক ভঙ্গি, জাবর কাটা, নাকের নিচে লোমবিহীন অংশে (মাজল) ভেজা ভাব ও উজ্জ্বল চেহারা থাকবে। পাশাপাশি সুস্থ পশুর মধ্যে একটা চঞ্চলতা সবসময় থাকবে। তার গায়ে হাত দিলে চামড়াতে একটু কাঁপুনি দেবে এবং মাছি তাড়ানোর মতো করে লেজ নাড়াবে।
পশু অসুস্থ কিনা তা বুঝতে হলে কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে হবে। অসুস্থ পশু পিঠ ওপরের দিকে বাঁকা করে দাঁড়িয়ে থাকে, ভাঙাস্বরে বেশি বেশি ডাকাডাকি করে। এ ছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে লাফানো এবং পানি খেতে অনীহা বা ভয় পায়। পশু রোগাক্রান্ত হলে শরীরের চামড়া কুঁচকে অতিরিক্ত হাড্ডিসার হয়ে যায়। এ ছাড়া পশুর চামড়ায় উষ্কখুষ্ক লোম, ক্ষত ও চর্মরোগের উপস্থিতি দেখা গেলেও বুঝতে হবে সেটি রোগাক্রান্ত। পাশাপাশি রোগাক্রান্ত পশুর মুখ থেকে অনবরত লালা ঝরা, মুখে ও পায়ে ক্ষত, তীব্র ডায়রিয়া এবং পায়ুপথে পুঁজ, ওলান/অণ্ডকোষ অস্বাভাবিক ফোলা থাকা, শ্বাসকষ্ট, নাকে সর্দি ভাব ও রক্ত মিশ্রিত গাঁজলা (ঘন ফেনা) থাকার কথাও বলা হয়েছে।
অসুস্থ পশুর নিস্তেজ ভাব, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস, মুখমণ্ডল, চোয়াল ও শরীরে কোনো অংশের অস্বাভাবিক ফোলা যেখানে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ওই স্থানের মাংস দেবে যায় এবং আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক সময় লাগে– এমন বিষয়গুলো নজর রাখার প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পশুর কানের গোঁড়ায় হাত দিয়ে স্পর্শ করলে জ্বরের মতো অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হতে পারে রোগাক্রান্ত হলে।
পশু কেনার ক্ষেত্রে কুরবানির জন্য প্রাপ্তবয়স্ক গরু কমপক্ষে দুই বছর বয়স এবং কমপক্ষে এক বছর বয়সের ছাগল/ভেড়া কিনতে হবে। আর কুরবানির জন্য গর্ভবতী পশু ক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে। তা ছাড়া গরুটির দাঁত দেখে বয়স বোঝা যায়। সুস্থ, পূর্ণবয়স্ক গরুর দাঁত দেখে পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়স শনাক্ত করা যায় নিখুঁতভাবে। দুই বছর বয়সী একটি সুস্থ গরুর দুটি স্থায়ী কর্তন দাঁত থাকে। তিন বছর বয়সে চারটি, চার বছর বয়সে ছয়টি ও পাঁচ বছর বয়সে পুরো মুখে সর্বমোট আটটি স্থায়ী কর্তন দাঁত থাকে। দাঁতগুলো অক্ষত এবং দেখতে সুন্দর হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. মো শাহিনুর আলম বলেন, সুস্থ পশুর মুখে খাবার তুলে দিলে জিভ দিয়ে টেনে নেবে। অসুস্থ পশু সচরাচর খাবার খেতে চায় না। আর সুস্থ পশু স্বাভাবিকভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। শুয়ে থাকা অবস্থায় সুস্থ পশু জাবর কাটে। অতিরিক্ত পেট ফোলা থাকবে না। সুস্থ গরু চঞ্চল, উৎফুল্ল থাকবে। এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে সুস্থ সবল গরু কুরবানি দেওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, 'অনেক সময় স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করার কথা বলা হয়। স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করার প্র্যাকটিস আমাদের দেশে খুবই কম হয়। বাস্তবে যা না হয় তার চেয়ে প্রচার বেশি হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গ্রোথ হরমোন আছে। সেই হরমোন সীমিত আকারে বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেটি আমদানিও হয় না। সুতরাং হরমোন ব্যবহারের কথা যদি বলা হয় সেটি আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না। তারপরেও চোরাই পথে যদি এসেও থাকে তাহলে সেই গরুর স্বাভাবিক চঞ্চলতা থাকবে না। সেই গরু অতিরিক্ত মোটা হবে, তার পাশাপাশি শরীরে যদি আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়া হয়, তাহলে সেই জায়গাটি পানি ফোলা রোগীর মতো দেবে যাবে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন