কেমন আছে হতভাগ্য মারিয়া

আপডেট: 02:01:17 19/10/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ছয় মাসের শিশু মারিয়া জানে না সে একই রাতে হারিয়েছে তার জন্মদাতা বাবা-মা ও ভাই-বোনকে। ঘাতকদের কারণে তাকে নিঃস্ব হতে হয়েছে। তারপরও মায়ের পরশ তো সবাই বোঝে। গর্ভধারিণীর কোলহারা ছয় মাসের শিশু মারিয়া এখন আরেক মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকছে। সে হাসছে, কাঁদছে, আবার সব কথা কান পেতে বেশ শুনছে। এখন সে সুস্থ আছে, ভালো আছে।
বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়ার খলসি গ্রামের একই পরিবারের চার সদস্যকে খুনের ঘটনার পর শিশু মারিয়াকে ঘাতকরা নিহত মা ও ভাইবোনের পাশে রেখে যায়। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে হেলাতলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে জিম্মায় দেন। এরপর থেকে তিনি মায়ের মমতা ও আদর দিয়ে লালন করছেন শিশুটিকে।
কলারোয়ার হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আমার দুটি ছেলে, কোনো মেয়ে নেই। বড় ছেলের আট মাসের একটি বাচ্চা আছে। শিশু মারিয়াকে পরিবারে আনায় সবাই দারুণ খুশি।'
তিনি আরো বলেন, ‘শিশুটিকে লালন করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার হেফাজতে যতদিন থাকবে, ততদিন ধরে আমি তাকে তিল তিল করে গড়ে তুলবো।’
ঘটনার দিন বাচ্চাটিকে উদ্ধার করা প্রতিবেশী আনিছুর বলেন, ‘ঘটনার দিন ফজরের আজানের সময় নিহতের ছোট ভাই রায়হানুর আমাকে ডেকে আনার পর তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করি। এক ঘরে তার মা এবং ভাই-বোনের লাশ দেখি, সেখানে রক্তের ওপর শুয়ে শুয়ে কান্নাকাটি করছিল শিশুটি। তাকে উদ্ধার করে বাইরে চলে আসি।’
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শিশুটিকে ইউপি সদস্যের হেফাজতে রেখে সর্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি ও দেখভাল করছি। তার জন্য খাদ্য ও পোশাক কিনে দিয়েছি। তার স্বাস্থ্যসেবারও ব্যবস্থা করেছি।’
মামলার তদন্তভার নিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, ‘আমরা আইনগত বিষয়টি দেখছি। পাশাপাশি শিশুটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তাকে দেখভাল করার দায়িত্ব আমারও রয়েছে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বাবা-মা, ভাই-বোনকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় এই মুহূর্তে শিশু মারিয়ার কোনো অভিভাবক নেই। সে যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, আমি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আপাতত তাকে কলারোয়ার হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের জিম্মায় রেখেছি এবং তার খোঁজখবর নিচ্ছি।’
তবে তার অভিভাবকরা নিতে চাইলে আইনুযায়ী তাদের কাছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে একই পরিবারের চার জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন−খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমান, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি ও মেয়ে তাসনিম। পরে কলারোয়ার ব্রজবক্সা গ্রামে নানার বাড়িতে চার জনকে দাফন করা হয়। রাতে শাহিনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা (নম্বর-১৪) দায়ের করেন। এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি পুলিশকে। এরপর নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ। রায়হানুল ইসলামকে দশ দিনের রিমান্ড চাইলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন