কেশবপুরে ঘেরের পানি উঠোনে, বহু মানুষ বন্দি

আপডেট: 10:40:02 16/01/2021



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুর উপজেলার বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর গ্রামের হাজারো মানুষ ঘেরের পানি সেচের কারণে জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার এখন চরম দুর্ভোগে।   
উপজেলার বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার মানুষের বাড়ির উঠোনে পানি উঠায় অনেকেই যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ দূর থেকে মাটি এনে উঠোনসহ যাতায়াতের রাস্তা উঁচু করার চেষ্টা করছেন। রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা পর্যন্ত করতে পারছে না অনেকেই। রান্নাঘরের মধ্যে পানি, উঠোনে পানি, ঘরে পানি, গোয়ালঘরে পানি। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছে গ্রামবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেশবপুর সীমান্তে মণিরামপুর উপজেলার শ্রীফলা বিল ও বয়ারখোলা বিলের ছোট বড় প্রায় অর্ধশত ঘেরের পানি সেচ দিয়ে মনোহরনগর-বাগডাঙ্গা খালে ফেলা হয়েছে। এর ফলে পানি বেড়ে গ্রামের মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। ঘেরের পানি অপসারণে সেচ কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বলা হলেও ঘের মালিকরা কারও কথায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরং তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
পানিবন্দি ছন্দারানী মণ্ডল জানান, কয়েকজন প্রভাশালী ঘেরমালিকের কারণে প্রতি বছর তাদের অসময়ে এ ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ অবস্থায় আর কতকাল থাকতে হবে তা জানা নেই।
ইউপি সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, শ্রীফলা বিল ও বয়ারখোলা বিলের ঘেরের পানি সেচ কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মাইকে প্রচার করা হলেও তা বন্ধ হয়নি। সেচের পানি বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খালে ফেলায় গত ১৫ দিন ধরে গ্রামের মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন কেশবপুরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা।
এ ব্যাপারে পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে ঘেরমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় ঘেরের পানি সেচ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন