কেশবপুরে বিএনপির এজেন্ট বিতাড়নের অভিযোগ

আপডেট: 07:04:26 28/02/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) থেকে ফিরে : কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হয়েছে।  সকাল আটটা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। এখন চলছে ভোট গণনা। তবে ইভিএমে ভোটদানে বিড়ম্বনার কথা জানিয়েছেন অনেকে। এদিকে কাউন্সিলর ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ, কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বুথে ঢুকে ভোট প্রদানে প্রভাবিত করা হয়েছে। অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিজাইডিং অফিসাররা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সকাল আটটার আগেই সাধারণ ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দিয়ে অপেক্ষা করেন। এরপর একে একে ভোট প্রদান করেন তারা। তবে ভোটার ও ভোটগ্রহণকারী সবার জন্য ইভিএম ছিল নতুন। ফলে প্রতিটি ভোট গ্রহণে দশ থেকে ১৫ মিনিট সময় লেগেছে। অনেকের আঙুলের ছাপ না মেলায় কেন্দ্রে রাখা সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফের ভোট দিয়েছেন। তবে অনেক ভোটারের দাবি, তারা সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরও আঙুলের ছাপ আসেনি। যে কারণে তারা ভোট দিতে পারেননি।
হাবাসপোল কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়া অশীতিপর আলী একুব্বর মোড়ল জানান, তাকে দুই দফা বুথে যেতে হয়েছে। প্রথমদফা আঙুলের ছাপ মেলেনি। পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এলেও ছাপ মেলেনি। সেকারণে তিনি ভোট দিতে পারেননি। অনুরূপভাবে মহিলা বুথে নারগিস আক্তার নামে আরেক নারীও দু'দফা চেষ্টায় ব্যর্থ হন।
কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সুব্রতসিংহ জানান, ভোটাররা প্রথম ইভিএমে ভোট দিচ্ছেন। সেকারণে একটু সময় নিচ্ছেন। এছাড়া মুরব্বিদের কয়েকজনের আঙুলের ছাপ মেলেনি। সেকারণে তারা ভোট দিতে পারেননি। তবে, ফাঁকা হলে আরেকবার চেষ্টা করা যেতে পারে।
এদিকে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সামাদ বিশ্বাস ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে পৌরসভার দশটি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের বের করে দেওয়া হয়েছে। যেকারণে বিএনপির ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি।
অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিজাইডিং অফিসাররা। তাদের দাবি, এই বিষয়ে কোনো প্রার্থী তাদের অভিযোগ দেননি। তাছাড়া ইভিএমে ভোট চুরির কোনো সুযোগ নেই।
কেশবপুর পৌর নির্বাচনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, ধানের শীষে আব্দুস সামাদ বিশ্বাস এবং হাতপাখা মার্কায় মুফতি আব্দুল কাদের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাকি ৩৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭৭৫।
এদিকে বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, তারা গণনার কাজ শুরু করেছেন। দ্রুতই কেন্দ্রের ফলাফল রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন