কেশবপুরে লীগের চার নেতা বহিস্কার, ভিন্ন বক্তব্য

আপডেট: 12:01:42 26/02/2021



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক: কেশবপুরে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের চার নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে এই পদক্ষেপ বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চন্দ্র সাহা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্ববায়ক আব্দুল গফফার ও যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম পৃথকভাবে তাদের সাময়িক বহিস্কারের বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠান।  
তবে, বহিস্কৃতরা দাবি করছেন- পৌর নির্বাচনে একজন জামায়াতনেতার ভাইয়ের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা।  
আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাময়িক বহিস্কৃতরা হলেন- কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান দফাদার, ৮নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর মোড়ল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম খান ও খন্দকার মফিজুর রহমান। তারা চারজনই কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৮নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৮নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান দফাদার, আব্দুল গফুর মোড়ল, সেলিম খান, খন্দকার মফিজুর রহমান এবং বর্তমান কাউন্সিলর মফিজুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া বিএনপিনেতা আব্দুল হালিমও এই ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।  
এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের পাঁচজন প্রার্থী হওয়ায় দলের নেতৃত্ব একক প্রার্থী মনোনয়নে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের নিয়ে বসে। সেখানে একক প্রার্থী হিসেবে মিজানুর রহমান দফাদারের নাম প্রস্তাব এবং অন্য চারজন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে জানান। কিন্তু দলীয়ভাবে মিজানুর রহমানকে সমর্থন না দিয়ে মফিজুর রহমানকে সমর্থন দেয়া হয়। এজন্য তারা চারজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে প্রার্থী হিসেবে থেকে যান।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আব্দুল গফুর মোড়লের ভাই ওই ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল হালিম। তাকে এবার জেতাতে গফুর মোড়ল নিজে ক্যান্ডিডেট হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ভোট বিভাজন হলে আব্দুল হালিমের বিজয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।  
অবশ্য, গফুর মোড়ল এটি অস্বীকার করছেন। তিনি বলছেন, কোনোভাবেই এই ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থীকে জেতানো যাবে না।  
বহিস্কারের বিষয়ে আব্দুল গফুর মোড়ল বলেন, বহিস্কারের চিঠি এখনও পাইনি। দল সমর্থন দিয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর মফিজুর রহমানকে। তিনি আওয়ামী লীগ করেন না। তার ভাই জামায়াত নেতা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে পরে ‘আগুন সন্ত্রাসের’ নেতৃত্ব দিয়ে নাশকতার মামলার আসামি হয়েছেন। আমরা মিজানুর রহমান দফাদারকে সমর্থন দেয়ার প্রস্তাব করি। কিন্তু তাকে না দিয়ে একজন জামায়াত নেতার ভাইকে সমর্থন দিতে বলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে এমন একজনকে সমর্থন দিতে পারি না। এজন্য দল আমাদের বহিস্কার করেছে।
এ বিষয়ে কথা হয় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চন্দ্র সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে মিজানুর রহমান দফাদার ও আব্দুল গফুর মোড়লকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।  
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের কর্মী। তার ভাই জামায়াতের সদস্য কি না তা আমার জানা নেই। অভিযোগ উঠলে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন