কেশবপুরে ‘ছাত্রলীগের অফিস’ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার

আপডেট: 03:51:31 18/02/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ছাত্রলীগের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখান থেকে দুটি রামদা, চারটি ছোরা এবং চারটি চাকু উদ্ধার হয়।
এ সময় কার্যালয়টি খোলা থাকলেও ছাত্রলীগের  কোনো নেতাকর্মী উপ¯িহত ছিলেন না।
এস আই তাপসকুমার রায় বলেন, ৬৪৮/১৮/০২/২০২০ নম্বর জিডিমূলে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের উপ¯িহতিতে অভিযান চালিয়ে ওই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যব¯হা নেওয়া হবে।
থানার ওসি মো. আবু সাঈদ বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে খবর পেয়ে ছাত্রলীগের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ঘরের মধ্যে ছানশেডের ওপর পরিত্যক্ত অব¯হায় দুটি রামদাসহ কয়েকটি ছোরা উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাজী মাজহারুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘কার্যালয়টি ছাত্রলীগের না। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান ও যুবলীগের আহ্বায়ক সহিদুজ্জামান বিশ্বাস সহিদ এবং ছাত্রগীগের বহিষ্কৃত নেতা আজিজের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কৃষকলীগের অফিসটি দখলে নেয়। ওখানে বসে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন বলেন, ‘২০১৬ সালে সন্ত্রাসীরা উপজেলা কৃষকলীগের অফিসটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। সেই থেকে তারা ওই ঘরটি তাদের ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। আজ কার্যালয়টি উদ্ধার করার পর সেখানে অস্ত্র দেখতে পাওয়া যায়। এরপর পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’
তিনি অস্ত্র যারা রেখেছিল, সেই সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের আগে শাসক দলের সহযোগী সংগঠনের অফিস থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারকে মনোনয়ন দিয়েছে। প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি এখনো তাদের প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি।
ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ইসমাত সংসদ সদস্য থাকাকালে কেশবপুরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী কর্মীদের দিয়ে কথিত হাতুড়ি বাহিনী ও গামছা বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন বলে খোদ দলটির দায়িত্বশীল নেতারা অভিযোগ করতেন। সেই সময় ওই সব সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ সমর্থকসহ বিভিন্ন মতপথের মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল।

আরও পড়ুন