কোটচাঁদপুরে লিন্টেল ধসে মৃত্যু, দায় নিচ্ছেন না কেউ

আপডেট: 07:07:47 15/10/2020



img

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কোটচাঁদপুর সরকারি কেএমএইচ কলেজে বুধবার নির্মাণ কাজের সময় লিন্টেল ভেঙে মাথায় পড়ে মালেক শাহ (৫০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই রাতেই স্থানীয় থানায় মামলা হয়েছে।
কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুল আলম জানান, ৩০৪-এর(ক) ধারায় ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ কাজ ও অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে প্রধান নির্মাণ মিস্ত্রি রাজিবের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে মামলা করেছেন মৃতের ছেলে শাকিল শাহ। মামলা নম্বর ১৪।
১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কলেজের সংস্কার কাজটি পান ঝিনাইদহের মেসার্স পিন্টু ট্রেডার্স। পরে কাজটি ‘কিনে নেন’ কালীগঞ্জের বাবু ও মিলন নামে দুই ঠিকাদার। তারা আবার চুক্তিতে কাজ দেন মিস্ত্রি রাজিবকে। বিষয়টি দেখভাল করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (শিক্ষা) তুহিন হোসেন।
অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি হাত বদলানোর কারণে কাজে ব্যাপক ত্রুটি রয়েছে। যে কারণে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বিষয়টি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অনুতোষকুমার বলেন, ‘এ কাজের দায়ভার সামান্য পরিমাণেও আমার নয়। কাজ বুঝ করে নেওয়ার দায়িত্ব সরকার আমাকে দেয়নি।’
কাজ বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব কার?- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিল্ডিং তৈরি হওয়ার পর শুধু চাবি বুঝ করে নেওয়ার দায়িত্ব আমার। আর কিছু নয়। বাকি দায়িত্ব প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের।’
তারপরও কাজ দেখাশুনার জন্য স্বেচ্ছায় তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দিয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ। কমিটির সদস্যরা হলেন, কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস) আতিকুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) রবিউল ইসলাম এবং প্রভাষক (জীববিজ্ঞান) আলমগীর হুসাইন।
সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস) আতিকুর রহমান বলেন, ‘এ কাজের তদারকি মানে বালি, ইট রড কোথায় নামবে, সেই জায়গা বের করে দেওয়া। তা ছাড়া আমরা তো এ কাজ খুব একটা বুঝি না। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব কখন লেবার নিয়ে ঢালাই দিচ্ছেন, আমাদের সাথে বলেনও না।’
উপ-সহকারী প্রকৌশলী তুহিন হোসেন ও সাব কন্ট্রাক্ট নেওয়া ঠিকাদার মিলন ও প্রধান নির্মাণ মিস্ত্রি রাজিব- কেউই এই দুর্ঘটনার দায়িত্ব নিতে চান না। তারা পৃথকভাবে একে অপরের ওপর দোষ চাপান।

আরও পড়ুন