কোটচাঁদপুর মহেশপুর শহরে সুনশান নীরবতা

আপডেট: 04:46:02 27/03/2020



img
img

কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) : অঘোষিত লকডাউনে কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার ব্যস্ত রাস্তায় এখন সুনশান নীরবতা। রাস্তায় লোকজন, যানবাহন নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে, করোনা আতংকে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল দুটি প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে।
শহরের কাঁচাবাজার খোলা থাকলেও ক্রেতা কম বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য সব দোকানপাট দৃশ্যত বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা হাসপাতাল দুটিতে রোগীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে কমে গেছে। অধিকাংশ রোগীর স্বজনদের ধারণা, হাসপাতাল থেকে করোনার বিস্তার ঘটতে পারে। এই কারণে তারা ডাক্তাদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগী বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই কারণে হাসপাতাল দুটি প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে।
যদিও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদ বলছেন, ‘রোগীদেরকে যথেষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করছি। তবুও তারা থাকতে চাচ্ছেন না বা অবিভাবকরা রাখতে চাচ্ছেন না। করোনা আতংকে তারা এমনটা করছেন।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য আলাদা বিল্ডিংয়ে বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া তিনি হাসপাতালটি অন্যান্য হাসপাতাল থেকে যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, কোটচাঁদপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মনির হোসেন বলেন, ‘এপর্যন্ত কোটচাঁদপুর উপজেলাতে ২০৫ জন দেশের বাইরে থেকে এসেছেন। এদের মধ্যে আমরা ১৬১ জনের মতো হদিস পেয়েছি।’
পাশের মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদ হোসেন খান বলেন, ‘এ উপজেলায় ৫০৮ জন বাইরে দেশ থেকে এসেছেন বলে আমরা একটি লিস্ট পেয়েছি। তাদের মধ্যে ৩৭৬ জনের মতো সন্ধান পেয়েছি। বাকিদের ঠিকানা ভুল। যাদের পাওয়া গেছে, তাদের বাড়ি থেকে বাইরে না বেরুতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, দশদিনের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে যারা এসেছেন, তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা থাকলেও তারা তা মানছেন না। তারা অবাধে চলাফেরা করছেন। ফলে এ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, করোনা আতঙ্ক এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনী শহরে টহলে থাকায় মানুষজন বাইরে খুব একটা বের হচ্ছে না। তবে গ্রামের দিকে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে উঠতি বয়সী যুবকদের আড্ডা আগের মতোই রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন