ক্রিকেটে মাশরাফির দেড় যুগ

আপডেট: 02:25:32 09/11/2019



img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ার শেষে ১৯ বছরে পা দিয়েছেন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। নড়াইলের সেই দুরন্তপনা কৌশিক এখন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গোটা বিশ্ব ক্রিকেটে ‘মাশরাফি’ হয়ে উঠেছেন। এই মাশরাফি হয়ে উঠতে কতই না কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে।
দুই পায়ে সাতবার অস্ত্রোপচারের পরও থেমে যাননি, বরং ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বারবার। দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লাল-সবুজ জার্সির কলার উঁচিয়ে।
এসবের সাক্ষী গোটা দেশ, ক্রিকেটবিশ্ব। গত ১৮ বছর ধরে তাকে জানলেও তার ক্রিকেটে উঠে আসার অনেক অজানা কথাই জানা নেই অনেকের।
নডাইল সরকারি বালক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে মাশরাফি। বন্ধুদের মধ্যে সে ছিল সবার চেয়ে একটু আলাদা, সবার কাছে জনপ্রিয়, ডানপিটে একটি ছেলে। একদিন সে বলেছিল, ‘আমার জাতীয় দলে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তোরা দোয়া করিস।’
এর আগে স্কুল টুর্নামেন্টে নড়াইল জেলা টিমের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড হিসেবে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে সবখানেই তার দুর্দান্ত পারফর্মেন্স। বিভাগীয় খেলায় সফলতার পরিচয় রেখেছে।
তারপর সত্যি সত্যি ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বাড়ির সাদা-কালো টেলিভিশনের পর্দায় বাংলাদেশের খেলা দেখতে বসে দেখা গেল।
বাল্যবন্ধু সৌমেন বসু বলেন, ‘‘নড়াইলের সেই স্কুলের বন্ধু, যে বলেছিল, ‘তোরা দোয়া করিস, আমার জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা আছে।’ তার সেই কথা তো বাস্তবে রূপ নিয়েছে, বল হাতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে আমাদের কৌশিক, সকলের প্রিয় মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। সেদিন বোলিংয়ের আগে সে কেঁদেছিল স্বপ্ন পূরণের আনন্দে।’’
‘‘একদিন সে উপাধি পেলো ‘নডাইল এক্সপ্রেস’। তার এই উপাধি সারাবিশ্বের কাছে নড়াইলকে পরিচয় করিয়ে দিলো এক নিমিষে; যে নড়াইলকে দেশের অনেক মানুষ চিনতো না। আমাদের সেই ছোট্ট বন্ধুটি নড়াইলকে শুধু বাংলায় নয়, পরিচয় করিয়ে দিলো সারা পৃথিবীর কাছে।’’
২০০১ সালের ৮ নভেম্বর থেকে আজ ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর, আঠারো বছরের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের আজ ১৯ বছরে পদার্পণ করেছেন মাশরাফি। সফলতার হাজারো গল্প আছে তার, কলার উঁচিয়ে যে একটির পর একটি সফলতার গল্প লিখেছেন, তেমনি ইনজুরির কাছে হেরে যেতে যেতে আবার উঠে দাঁড়ানোর সব ঘটনা এখন ঘুরে দাঁড়াতে চাওয়া সকলের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
ক্রিকেটার থেকে ক্রিকেট মাঠের অধিনায়ক, ক্রিকেট মাঠের সফল নেতা। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট কোথা থেকে আজকের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে তা সবারই জানা।
ক্রিকেটপাগল মাশরাফি মাঠের নেতা থেকে হয়ে গেছেন জনগণের নেতা। হাল ধরেছেন নিজ জেলার। যে নড়াইল জেলায় তিনি নিজে জিম করতে পারেননি, মাঠে কিংবা রাস্তায় মাইলের পর মাইল দৌঁড়িয়েছেন, আজ সেই নডাইলে তার প্রচেষ্টায় সরকার অত্যাধুনিক দুটি জিমনেশিয়াম তৈরি করে দিচ্ছে।
যে জেলায় ছোটবেলায় নিজের ইনজুরির ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি, সেখানে সরকার ২৫০ শয্যার মডেল হাসপাতাল করে দিচ্ছে, যার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে জেলা থেকে নিজে ভালো প্রশিক্ষণের পরিবেশ পাননি, আজ সেখানে নিজ অর্থায়নে করেছেন ক্রিকেট-ফুটবলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।