ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে যুবলীগ নেতা

আপডেট: 07:56:35 08/02/2020



img

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : ঘের দখল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জাহিদ নামে এক ব্যক্তিকে মারপিট করায় জনতার তোপের মুখে পড়েন তালার খলিলনগর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুল করিম মোড়ল।
জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার দোকানে আশ্রয় নেন। ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় উত্তেজিত জনতাকে সামাল দিতে পুলিশকে বারবার লাঠি উঁচিয়ে ধাওয়া করতে হয়। পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে করিমকে উদ্ধার করতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হয় পুলিশকে।
প্রত্যক্ষদর্শী কুদ্দুস মোড়ল, আব্দুর রহমান শেখ, রফিকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রসাদপুর বিলে খলিলগর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুল করিম মোড়লের তিন বিঘা আয়তনের একটি মাছের ঘের রয়েছে। এই ঘেরের পাশে খলিলনগর গ্রামের মৃত লিয়াকত মোড়লের ছেলে জাহিদ মোড়লের ৩৫ বিঘা আয়তনের আরেকটি ঘের রয়েছে। জাহিদের ঘেরটি করিম মোড়ল জোবরদখল করার চেষ্টা চালালে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী জাহিদ মোড়ল জানান, প্রসাদপুর গ্রামের কওছার মোড়লের ছেলে আব্দুল করিম মোড়ল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির পদ ব্যবহার করে ঘের দখলের জন্য তাকে কয়েকদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় খলিলননগর বাজারে নিজ ডিপোতে এলে জাহিদ মোড়লের ওপর আকস্মিক হামলা চালায় আব্দুল করিম ও ছাত্রদলনেতা আল আমীন। করিম ও আল আমীনের মারপিটে জাহিদ গুরুতর আহত হয়। একপর্যায়ে বাজারের লোকজন এগিয়ে এসে জাহিদকে উদ্ধার করেন। হামলাকারী আল আমীনের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও সাংবাদিক গাজী মোমিন উদ্দীনের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নিরীহ ঘের ব্যবসায়ী জাহিদকে মারপিট করার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাজারে মানুষ। ঘটনার সংবাদ পেয়ে গ্রাম থেকে শত শত মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে আব্দুল করিম খলিলনগর বাজারে অবস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রসুলের দোকানে আশ্রয় নেন। ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে এবং বাজারে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খলিলনগর ক্যাম্প পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। সংবাদ পেয়ে তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চেষ্টা করে পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে করিম মোড়লকে উদ্ধার করে স্থানীয় খলিলনগর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বিষয়টির মীমাংশা করেন।

আরও পড়ুন