খুলনার সাত পাটকলে উৎপাদন শুরু

আপডেট: 02:04:46 04/01/2020



img
img

খুলনা অফিস : শনিবার ভোরে সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছেন খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি পাটকলের শ্রমিকরা।
১৬ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় মজুরি কমিশন-২০১৫ প্রদানের আশ্বাসে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন তারা। ফলে উৎপাদন শুরু হয়েছে পাটকলগুলোতে। টানা পাঁচদিন অনশন কর্মসূচির পর শনিবার ভোরে কাজে যোগদান করেন তারা। এর ফলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে শিল্পাঞ্চলে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন জানান, ‘১৫ দিনের মধ্যে মজুরি কমিশনের স্লিপ প্রদান করা হবে মর্মে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। ১৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আমাদের স্লিপ প্রদান করা হবে। শনিবার ভোর ছয়টা থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন।’
তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাটকল খুলনায়। খুলনার সাতটি পাটকলে স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। যারা সবাই কাজে যোগদান করেছেন।
মিলগুলো হচ্ছে- ক্রিসেন্ট জুটমিল, খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিল, স্টার জুটমিল, আলিম জুটমিল ও ইস্টার্ন জুটমিল। ফলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে শিল্পাঞ্চলে।
বিজেএমসি সূত্রে জানা যায়, আমরণ অনশনের সময় খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের মধ্যে যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিল বাদে বাকি সাতটি পাটকলের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এ পাটকলগুলোতে প্রতিদিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। সেখানে চালু থাকা যশোরের দুটি পাটকলে উৎপাদন হয়েছে ৮৬ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন। পাটকলগুলোতে প্রতিদিনের উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। সে হিসেবে শ্রমিকদের পাঁচদিনের অনশনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি নিয়ে গত ১৫, ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। সর্বশেষ ২৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ওই দিন ২৯ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আবারো ১১ দফা দাবিতে অনশন করার ঘোষণা দেন শ্রমিকনেতারা। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করেন।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শ্রমিকনেতাদের বৈঠক শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ‘পাটকল শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করা হবে’ বলে ঘোষণা দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এরপর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিকনেতারা।

আরও পড়ুন